পিরোজপুর অফিস ও শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
ঈদকে সামনে রেখে পূর্ব সুন্দরবনে শিকারিচক্র ও কাঠ পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বনবিভাগ হরিণ শিকারসহ বন্যপ্রাণী ও কাঠ পাচার রোধে সুন্দরবনে জোরদার করেছে বনরক্ষীদের নজরদারি ও টহল তত্পরতা।
বন সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনসংলগ্ন শরণখোলা, মোংলা, চাঁদপাই, মোরেলগঞ্জ, পাথরঘাটার চরদুয়ানী, জ্ঞানপাড়াসহ আশপাশের অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে একটি শিকারি ও কাঠপাচারকারী চক্র। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, শিকারিচক্রের প্রধান ঘাঁটি পাথরঘাটার চরদুয়ানী ইউনিয়নের জ্ঞানপাড়া, খলিফারহাট এবং সদর ইউনিয়নের রুহিতা, হরিণটানা ও পদ্মা গ্রাম। গত এক মাসে একাধিক ঘটনায় বিপুল পরিমাণ হরিণের মাংসসহ কয়েকজন শিকারি আটক হয়েছে। গত ২১ এপ্রিল রাতে শরণখোলার বনসংলগ্ন সোনাতলা গ্রাম থেকে থানা পুলিশ ১৫ কেজি হরিণের মাংসসহ দুই চোরা শিকারিকে আটক করে। ১৪ এপ্রিল স্বরূপকাঠি পৌর শহরে হরিণের মাংস গোপনে বিক্রির সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত ১০ কেজি মাংসসহ মমতাজ বেগম নামের এক নারীকে আটক করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। শরণখোলা থানা পুলিশ ১ এপ্রিল রাতে উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন শরণখোলা গ্রামের রাস্তা থেকে পাচারকারীদের কবল থেকে সুন্দরবন থেকে ধরে আনা ঝুড়িবন্দী চারটি বিরল প্রজাতির তক্ষক উদ্ধার করে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন-এর শরণখোলা উপজেলা সেক্রেটারি ডা. রুহুল আমীন বলেন, ‘সারা বছরই কমবেশি শিকারিচক্র সুন্দরবনে হরিণ শিকার করে থাকে, কিন্তু আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সংঘবদ্ধ শিকারিচক্র সুন্দরবনে হরিণ শিকারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাচ্ছি।’ পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন মুঠোফোনে জানান, আসন্ন ঈদের সময় শিকারিদের কবল থেকে হরিণসহ বন্যপ্রাণী রক্ষা এবং কাঠ পাচার রোধে বনবিভাগের সব স্টেশন ও টহল ফাঁড়িতে নজরদারি জোরদার করে টহল তত্পরতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
