নওগাঁয় কালবৈশাখীতে ধান, পাটসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট : ১১ মে ২০২১, ২২:৫৪

গত সোমবার দিবাগত রাতে ১০ মিনিট স্থায়ী কালবৈশাখী ঝড়ে নওগাঁর মান্দা, নিয়ামতপুর ও মহাদেবপুর উপজেলায় শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমির বোরো ধান, পাট, মৌসুমি ফলসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে ধামইরহাটে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গরু আনতে গিয়ে বজ পাতে রেজাউল ইসলাম (৬২) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

জানা গেছে, নওগাঁয় সোমবার রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর তাণ্ডবে মান্দা, মহাদেবপুর, নিয়ামতপুরে ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। ঝড়ের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হয়েছে শতাধিক কাঁচা-পাকা বাড়ি। উড়ে গেছে ঐ সব বাড়ির টিনের ছাউনি। তার ছিঁড়ে বিদ্যুিবচ্ছিন্ন রয়েছে পুরো এলাকা। গাছ পড়ে ও টিনের ছাউনি উড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা গেছে, মান্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬৮ হেক্টর জমির পাট। এ ছাড়া কলাবাগান, পেঁপে, পটোল, বেগুন, কচুসহ বিভিন্ন সবজির খেত চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মহাদেবপুরে ১১০ হেক্টর জমির বোরো ধানসহ অন্য ফসল এবং নিয়ামতপুরে পাটসহ অন্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

ইউনিয়নের নলকুড়ি গ্রামের কৃষক আফসার আলী জানান, মাঠে কাটার উপযুক্ত দেড় বিঘা জমির বোরো ধান শিলাবৃষ্টিতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। নলকুড়ি, রায়পুর, বর্দ্দপুর, উত্তর ও দক্ষিণ মৈনম মাঠের কাটার অপেক্ষায় থাকা বোরো ধানের খেত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। 

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল হালিম বলেন, ‘বিষয়টি অবহিত হয়েছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিগিগরই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদান করা হবে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সামছুল ওদাদুদ জানান, মান্দায় ১৬৮ হেক্টর জমির পাট ছাড়াও কলাবাগান, পেঁপে, পটোল, বেগুন, কচুসহ বিভিন্ন সবজির খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মহাদেবপুরে ১১০ হেক্টর বোরো ধান, পাটসহ অন্য ফসল এবং নিয়ামতপুরে পাটসহ অন্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে আমের কোনো ক্ষতি হয়নি।