রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ী ডিপোতে গতকাল মঙ্গলবার প্রদর্শনের জন্য প্রথমবারের মতো চালানো হয়েছে স্বপ্নের মেট্রোরেল। বেলা পৌনে ১২টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এই পরীক্ষামূলক চলাচল দেখানো হয়। ছয়টি বগির সেট নিয়ে ট্রেনটি ওয়ার্কশপ থেকে ৫০০ মিটার পাড়ি দেয়। ট্রেনটি সম্পূর্ণ বিদ্যুত্চালিত। জাপানের কাওয়াসাকি কোম্পানি ট্রেনগুলোর নির্মাতা। তাদেরই একজন চালক ট্রেনটি চালান। আর এর মাধ্যমে বৈদ্যুতিক ট্রেনের যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।
এ উপলক্ষ্যে ডিপোতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাপানের অ্যাম্বাসেডর এবং জাইকার কান্ট্রি ডিরেক্টর। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজের সার্বিক গড় অগ্রগতি ৬৩ দশমিক দুই ছয় শতাংশ। প্রথম পর্যায়ের নির্মাণের জন্য নির্ধারিত উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে আগারগাঁও এলাকার অংশের পূর্ত কাজের অগ্রগতি ৮৪ দশমিক সাত নয় শতাংশ। মন্ত্রী জানান, প্রথম ট্রেনটি আগামী আগস্ট মাসে ডিপোর বাইরে উড়ালপথে তোলা হবে। সেখানে প্রথমে পারফরম্যান্স টেস্ট, তারপর সমন্বিত পরীক্ষামূলক চলাচল, তারপর পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষামূলক চলাচল হবে।
ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্মাণের জন্য নির্ধারিত আগারগাঁও এলাকা থেকে মতিঝিল এলাকার অংশের পূর্ত কাজের অগ্রগতি ৫৯ দশমিক সাত আট শতাংশ এবং ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল সিস্টেম, রোলিং স্টক ও ডিপো ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ কাজের সমন্বিত অগ্রগতি ৫৪ দশমিক চার শূন্য শতাংশ।
এ ব্যাপারে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড-ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক জানিয়েছেন, প্রথম সেটে ছয়টি বগি রয়েছে। এগুলোর পরীক্ষামূলক চলাচল এ মাসেই শুরু হবে। আমরা সেজন্য প্রস্তুত নিচ্ছি।
জানা গেছে, মেকানিক্যাল-ইলেকট্রিক্যাল, ওয়াশিংসহ প্রতিটি কোচের ১৯ ধরনের পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু হয়েছে। এরপর এসব বগি রেলপথে চালানোর জন্য প্রস্তুত করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল মেট্রো ট্রেনের প্রথম সেটটি জাপান থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছায়, যা ফার্স্ট ট্র্যাক করা সরকারি প্রকল্পটির জন্য একটি বড় ধরনের মাইলফলক। আর গত রবিবার মেট্রোরেলের জন্য তৈরি করা দ্বিতীয় সেটের বগিও জাপানের কোবে সমুদ্রবন্দর থেকে মোংলায় এসেছে। প্রতি ট্রেনে ছয়টি করে কোচ থাকবে। মেট্রোরেলের জন্য মোট ২৪ সেট ট্রেনে মোট ১৪৪টি কোচ আনা হবে। ছয় কোচের প্রতিটি ট্রেনে যাত্রী পরিবহনের ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৩০৮ জন।
