বিদায় মাহে রমজান

আপডেট : ১১ মে ২০২১, ২৩:০১

আজ ১৪৪২ হিজরির ২৯তম দিন। রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো করোনা ভাইরাসকালীন এবারের খুশির ঈদ। যে ঈদে করোনা ভাইরাসের ছোঁয়াচে রোগ থেকে বাঁচার জন্য ঈদের নামাজ শেষে ঈদগাহে কোলাকুলির চিত্র তেমন দেখা যাবে না। আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শুভেচ্ছা বিনিময় করব। আফসোস, আজ আমাদের সব মানবতা যেন কোথায় হারিয়ে গেছে! রসুলে পাক (স.) বলেন, ‘লিকুল্লি কাওমিন ঈদ হাজা ঈদুনা।’ অর্থাত্, প্রত্যেক কওমের আনন্দ উত্সব রয়েছে। আর আমাদের আনন্দ উত্সবের জন্য রয়েছে দুটি ঈদ—অর্থাত্ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি করিম (স.) বলেন, যখন মদিনায় আগমন করেন, তখন সেখানে দুটি দিন ছিল, সেই দিন দুটিতে তারা আনন্দ-ফুর্তি করত। তিনি বললেন, এ দুটি দিন কী? তারা বলল :আমরা জাহেলি যুগে এতে আনন্দ-ফুর্তি করতাম। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি করিম (স.) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে সাওম পালন নিষেধ করেছেন।

মুসলিম জাতির যে সমস্ত পবিত্র ও ধর্মীয় আনন্দ উত্সব রয়েছে, তার মধ্যে ঈদুল ফিতর একটি। সারা বিশ্বের মুসলমানগণ প্রতি বছর শাওয়াল মাসের প্রথম দিকে অত্যন্ত খুশি ও আনন্দের সঙ্গে এ উত্সব উদ্যাপন করে থাকেন। ঈদুল ফিতর ছাড়াও ঈদুল আজহা নামে আরেকটি ধর্মীয় আনন্দ উত্সব রয়েছে, যা তারা অত্যন্ত গুরত্বের সঙ্গে উদ্যাপন করেন। মুসলমানদের ধর্মীয় উত্সব মূলত এ দুটিই। তবে লাইলাতুল কদর, লাইলাতুল বরাত, মিলাদ মাহফিল, ঈদে-মিলাদুন্নবিসহ আরো অনেক উত্সব মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে। এ ছাড়া জুমাআর দিন হলো মুসলমানদের সাপ্তাহিক ঈদ।

পবিত্র রমজানের পূর্ণ মাস কঠোর সিয়াম সাধনার পর শাওয়াল মাসের প্রথম সন্ধ্যায় মহানন্দের বৈভব নিয়ে রুপালি আকাশে পশ্চিম দিগন্তে উদিত হয় কাস্তের ন্যায় একফালি ঝলমলে নতুন চাঁদ, যার আগমনীতে নিখিল বিশ্বে খুশির জোয়ার বয়ে যায়। সেই দিনের নাম হলো ঈদুল ফিতর। এই ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে মুসলিম পরিবারে বয়ে যায় অনাবিল প্রশান্তি ও আনন্দ।

দীর্ঘ এক মাসের নিরবচ্ছিন্ন কৃচ্ছ সাধনা সমাপনান্তে ধনী-গরিবনির্বিশেষে সবাই ঈদের আনন্দে শরিক হই। কারণ ঈদ শব্দটি মূলত নিষ্পন্ন হয়েছে উদ-মূল ধাতু থেকে । এর অর্থ প্রত্যাবর্তন, ফেরা, পুনরাগমন ইত্যাদি। প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে এ উত্সবের পুনরাগমন ঘটে বলে একে ঈদ বলা হয়। যেহেতু ঈদের দিনে আল্লাহপাক প্রচুর রহমত ও নিয়ামতের সওগাত নিয়ে বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দান করেন, সেহেতু একে ঈদ নামে আখ্যায়িত করা হয়।

লেখক :অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল মুকাররামাহ ও সাবেক খতিব,

জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ