চীনের কাছ থেকে ৪ বা ৫ কোটি কোভিড টিকা কিনতে চায় সরকার। এটি নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেপালকে চিকিত্সাসামগ্রী উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
আজ বুধবার ৫ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে চীন থেকে আসবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের জোর অনুরোধ জানিয়েছি যেন দ্রুততার সঙ্গে টিকা সরবরাহ করা হয়। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে, জুন-জুলাই থেকে টিকার সরবরাহ ধীরে ধীরে পাব।
অনুমোদন না দেওয়ার কারণে চীনের টিকা আসতে দেরি হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, তাদের একটি প্রস্তাব ছিল। কিন্তু আমাদেরও একটা সিদ্ধান্ত ছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন না থাকার কারণে আমাদের বিশেষজ্ঞ যারা রয়েছেন তারা এই টিকা নিতে আগ্রহী ছিলেন না। জনগণের কথা বিবেচনা করে আমরা তখন সায় দেইনি। সম্প্রতি তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পেয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা আমাদের জানিয়েছিল অনেক দেশ এই টিকা ব্যবহার করছে এবং তাদের কোনো সমস্যা হয়নি।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, চীন আমাদের দেশে ট্রায়াল করতে চেয়েছিল এবং তখন আমরা বলেছিলাম যে তোমরা এটি অন্য দেশে কর। এরপর তোমাদের কাছ থেকে আমরা টিকা নেব। পরবর্তী সময় আমরা ট্রায়াল করতে রাজি হই। কিন্তু তখন তারা এটি করতে রাজি হয়নি। কারণ, তারা এর জন্য অর্থ চেয়েছিল, যেটি আমরা দিতে রাজি ছিলাম না। এখন আমরা তাদের কাছ থেকে ভ্যাকসিন কিনতে চাচ্ছি। দুটি চুক্তির বিষয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। একটি সরাসরি ক্রয় করা এবং আরেকটি এখানে উত্পাদন করার।
অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তিপত্র রয়েছে। সেটি যাচাই-বাছাই করে আমরা পাঠিয়ে দিয়েছি। তাদের মতামতের জন্য অপেক্ষা করছি। রাশিয়ার সঙ্গে এরই মধ্যে আমরা নন-ডিসক্লোজার চুক্তি সই করেছি এবং এই চুক্তি সই হওয়ার পরে আমরা সংগ্রহ ও যৌথ উত্পাদন বিষয়ে আলোচনা শুরু করব।
চীনের ৫ লাখ টিকা কীভাবে ব্যবহার করা হবে—জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চীনের টিকা দুইবার দেওয়া যায়, এভাবেই আমরা এই টিকা ব্যবহার করব। চীনের টিকা কবে নাগাদ আসতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা প্রস্তাব করেছি জুন-জুলাই থেকে আমাদের টিকা দেওয়ার জন্য।
