রাজশাহীর বাঘায় ইমো ও বিকাশ প্রতারণার সঙ্গে সম্পৃক্ত জুয়েল রানাকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৩ মে) সকাল ১১টার দিকে বাঘা থানা পুলিশের সহায়তায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত জুয়েল রানার বাড়ি উপজেলার চক ছাতারী গ্রামে। তার পিতার নাম মো. সিদ্দিক আলী বলে জানা গেছে।
ঢাকা ডিএমপি পুলিশ উত্তরা থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) হাসান আলী জানান, জুয়েল রানা বাঘা উপজেলার চিহ্নিত ইমো ও বিকাশ প্রতারক। তার সঙ্গে এ অঞ্চলের আরো অনেকেই সম্পৃক্ত রয়েছে। সে সম্প্রতি একজন সৌদি প্রবাসীর সঙ্গে ইমো প্রতারণার মাধ্যমে ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার সময় তাকে আটক করে থানায় নিয়ে এলে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় লোকজন জানায়, রাজশাহীর বাঘায় ইমো-হ্যাকারদের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হচ্ছে মানুষ। একদল সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে প্রতিনিয়ত প্রতারিত করছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে ফেসবুকে লাইভ ভিডিও সুবিধা চালু হবার পর এই প্রতারণায় এসেছে নতুন মাত্রা। এখন সরাসরি লাইভ ভিডিওতে বিকাশ থেকে টাকা নেওয়ার মাধ্যমে হচ্ছে প্রতারণা। এ ছাড়াও হোয়াটস অ্যাপে বিভিন্ন অফারে প্রতিনিয়ত বিকাশ করে প্রতারিত হচ্ছেন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা।
বাঘা থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মাসে এ উপজেলায় আশংকাজনক হারে বেড়েছে ইমো প্রতারণা। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকার গড়গড়ি ও পাকুড়িয়া ইউনিয়নে এর প্রবণতা অন্য যেকোনো এলাকার চেয়ে অনেক বেশি। সম্প্রতি বাঘা থানা পুলিশ এসব প্রতারণা চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্তদের তালিকা সংগ্রহ শুরু করেছে। আর এসব তালিকা ধরে থানায় চার মাসে তিনটি মামলায় রেকর্ড করা হয়েছে। এতে আসামি করা হয়েছে ১২ জনকে। এর মধ্যে আটক করা হয়েছে ৮ জনকে।
এরা হলো, আলামিন হোসেন, পারভেজ খান, রুবেল হোসেন, পল্লব, মতিন, ডলটন, শফিকুল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম। এদের বয়স ২০ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে।
বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলার চক ছাতারী গ্রামের সিদ্দিক আলীর ছেলে জুয়েল রানার নামে ঢাকা উত্তরা থানায় ইমো প্রতারণার মামলা করেছেন সৌদি প্রবাসী মুন্না। এ মামলায় ডিএমপি পুলিশ তাকে আটক করে ঢাকায় নিয়ে গেছেন।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
