করোনা থেকে মুক্তির প্রার্থনা

আপডেট : ১৬ মে ২০২১, ২১:৫০

নানা বিধিনিষেধের মধ্যে যেন পূর্ণতা ছিল না ঈদের আনন্দে

বিশেষ প্রতিনিধি

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৭টায় ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে অংশ নেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। নামাজ শেষে খুতবা পেশ করা হয়।   মোনাজাতে মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা এবং ফিলিস্তিনিসহ সারা পৃথিবীর মানুষকে হেফাজতের জন্য দোয়া করা হয়। এক মাস রোজা রাখার পর ঈদুল ফিতর খুশি, আনন্দ আর উচ্ছ্বাসের দিন। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে নানা বিধিনিষেধের মধ্যে ঠিক যেন পূর্ণতা ছিল না ঈদের আনন্দে। বিনোদনকেন্দ্রগুলো  বন্ধ থাকায় অনেকে সেখানে গিয়েও ফিরেছেন মন খারাপ করে। জাতীয় ঈদগাহ মাঠ, ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়াসহ কোনো মাঠেই ঈদের বড় জামাত হয়নি। বিধিনিষেধ মেনে মসজিদেই পড়তে হয়েছে ঈদের নামাজ। বিধিনিষেধ ছিল কোলাকুলি ও করমর্দনের ওপরও। ঈদের নামাজের পর নতুন জামা পরে বাসায় বাসায় যাওয়া বা আগত অতিথিদের খাবার পরিবেশনের সেই চিরচেনা দৃশ্যও  ছিল সীমিত।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে মোট পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি জামাত শুরু হওয়ার আগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসল্লিদের মসজিদে ঢোকানো হয়। বিশেষ করে মাস্ক পরতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। যাদের মুখে মাস্ক নেই তাদের বিনা মূল্যে মাস্ক দিয়েছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। প্রথম জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। মুকাব্বির ছিলেন মুয়াজ্জিন হাফেজ কারি কাজী মাসুদুর রহমান।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ভিডিও বার্তা দেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে সকালে বঙ্গভবনের দরবার হলে পরিবারের সদস্য এবং নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে ঈদের নামাজ পড়েন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সাধারণত ঈদের দিনে বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল হলে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাষ্ট্রপ্রধান। তবে করোনার কারণে এবার সে আয়োজন ছিল বন্ধ।

তবে বরাবরের মতো যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঈদুল ফিতরের দিন শহিদ পরিবার ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ফল ও মিষ্টান্ন প্রেরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ঈদের দিন সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের ঈদ শুভেচ্ছা জানান এবং রাজধানীর মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) বসবাসরত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফল ও মিষ্টান্ন প্রেরণ করেন।