ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলি বিমান হামলার ঘটনায় ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও পক্ষে-বিপক্ষে বিক্ষোভ হয়েছে। নিউ ইয়র্কে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন ইহুদিরাও। খবর বিবিসি ও ডয়চেভেলের
ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে দাঙ্গা :ইসরাইলে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি এবং আরবদের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ইসরাইলিদের বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ চলছে। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। লড, বেটিয়াম ও অ্যাকরে ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, বিভিন্ন শহরের অশান্তি বন্ধ করতে সেনা নামানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি।
বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ :এক সপ্তাহ ধরে হামাসের সঙ্গে ইসরাইলের লড়াই চলছে। ইসরাইলের হামলায় ১৮৮ জনের প্রাণ গেছে যাদের মধ্যে ৫৫ জন শিশু এবং ৩১ নারী রয়েছেন। এই দ্বন্দ্বের অবসানে বিশ্ব জুড়ে চলছে বিক্ষোভ প্রতিবাদ। নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ইসরাইল সমর্থকদের সমাবেশের সময় ফিলিস্তিনের সমর্থনে পতাকা ও প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এক অর্থোডক্স ইহুদিকে। প্ল্যাকার্ডে ইহুদি সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ইসরাইলের হিংস্রতার নিন্দা জানানো হয়েছে। টাইমস স্কয়ারে ইসরাইলের সমর্থকদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘ইসরাইল ইজ আন্ডার অ্যাটাক।’ ম্যানহাটনে ইসরাইল কনস্যুলেটের সামনে ইসরাইলি সমর্থকদের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এক ফিলিস্তিন সমর্থক। ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিক্ষোভ হয়েছে মিউনিখে। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘ইসরাইল একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র।’ ইরানের রাজধানী তেহরানে ফিলিস্তিনের সমর্থনে সমাবেশে যোগ দেন হাজারো মানুষ। দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনে পার্লামেন্টের বাইরে ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক শ মানুষ। দেশটির স্যান্ডটন শহরেও ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বিক্ষোভ হয়। লন্ডনে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বিক্ষোভ সমাবেশে পতাকা আর প্ল্যাকার্ড হাতে হাজির হন হাজার হাজার সমর্থক। কেনিয়া এবং তুরস্কেও ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে।
বিপাকে ইসরাইলের আরব বন্ধুরা :ফিলিস্তিনিদের অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করা হচ্ছে উল্লেখ করে ইসরাইলের প্রতি নিন্দা জানিয়েছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। সামরিক অভিযান বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এদিকে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘাতে বিপাকে ইসরাইলের আরব বন্ধুরা, যারা সম্প্রতি সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। গত আগস্টে ইসরাইলের সঙ্গে প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তারপর একে একে বাহরাইন, মরক্কো, সুদান কূটনৈতিক সম্পর্ক চালু করে। এখন ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে কার্যত যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ঐ দেশগুলো চুপ করে থাকাই শ্রেয় মনে করছে।
ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস (ইসিএফআর) এর বিশ্লেষক ও ভিজিটং ফেলো সিনজিয়া বিয়ানকো ডয়চেভেলেকে বলেছেন, ‘ইরান ও তুরস্ক এই পরিস্থিতির সুযোগ নেবে ও ইসরাইলের বন্ধু দেশগুলোকে আক্রমণ করবে এটা স্বাভাবিক। আরব দেশগুলো সমালোচনায় মুখর হলে আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো, সুদানের ওপর ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা নিয়ে চাপ বাড়বে। এমনিতেই ঐ দেশের মানুষদের একাংশ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাই ঐসব দেশের প্রধানদের বলতে হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা সমাধানের জন্যই তারা ঐ পদক্ষেপ নিয়েছেন। আমিরাত ও ইসরাইলের মধ্যে যখন চুক্তি হচ্ছে, তখন আবুধাবির যুবরাজ বলেছিলেন, ফিলিস্তিনের এলাকায় ইসরাইল আর আগ্রাসন চালাবে না। যদিও সংযুক্ত আরব আমিরাত দুই পক্ষকেই অস্ত্র সংবরণের আহ্বান জানিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে বাহরাইন। মরক্কো ঘোষণা করেছে তারা পশ্চিম তীর ও গাজায় ৪০ টন খাদ্য, ওষুধ ও কম্বল পাঠাবে। মিশর ইসরাইল ও হামাস নেতাদের সঙ্গে অস্ত্রবিরতির আলাপ শুরু করেছে, যদিও সমঝোতায় এখনো পৌঁছানো যায়নি।
সংঘাত কি মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ছে? :এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের ফিলিস্তিনিপন্থিদের সঙ্গেও ইসরাইলের সংঘাত বাধার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গাজায় হামলার প্রতিবাদ জানাতে জর্ডান ও লেবাননের ইসরাইল সীমান্তে জড়ো হন বহু মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে জর্ডানের সঙ্গে ইসরাইলের সংযোগ স্থাপনকারী অ্যালেনবি সেতুর দিকে কয়েক শ জর্ডানিয়ানকে ছুটে যেতে দেখা যায়।
লেবাননের কয়েক জন বিক্ষোভকারী ইসরাইলের সীমান্তবর্তী শহর মেটুলে প্রবেশ করতেও সমর্থ হন। ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে। এতে এক জন লেবানিজ মারা গেছে। সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে সিরিয়াও। শুক্রবার দেশটি থেকে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে তিনটি রকেট হামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী। এর মধ্যে দুইটি পড়েছে গোলান মালভূমি, অন্যটি সিরিয়ার ভেতরেই ভূপাতিত হয়েছে। ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
