ফের ঢাকামুখী মানুষের ঢল

আপডেট : ১৬ মে ২০২১, ২৩:১৯

পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছেড়েছে লাখ লাখ মানুষ। বাড়ি ফিরতে ভোগ করতে হয়েছে অনেক বাধা-বিপত্তি। মানুষের চাপাচাপিতে ছয় জন নিহত ও আহত হয়েছেন অনেকে। ঈদ শেষ, এবার কর্মক্ষেত্রে ফেরার যুদ্ধ। তাইতো ঈদের পরের দিন শনিবার থেকেই ফেরিঘাটে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। অপরদিকে ঈদের পরও  পরিবার-পরিজন নিয়ে ঢাকা ছেড়েছেন অনেকে। শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ফেরিঘাটে ছিল আগের মতই যাত্রীচাপ। দুই দিকেই গতকাল ছিল মানুষের চাপ। 

এদিকে নগরীর প্রবেশপথ গাবতলী, যাত্রাবাড়ী ও আব্দুল্লাহপুরে মানুষের সংখ্যা গতকাল সকাল থেকেই বাড়তে শুরু করে। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকলেও জেলার ভেতরে বাস চলছে। এর ফলে মানুষ বাসে করে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গিয়ে ঢাকার দিকে আসছেন।       বাসে করে ঢাকায় সীমানায় এসে নেমে এরপর হেঁটে ঢুকছেন ঢাকায়। মানুষকে ঢাকায় আসতে বাস বদলাতে হচ্ছে কয়েক দফা। ফলে ধীরে ধীরে সচল হচ্ছে রাজধানী। ঈদের তৃতীয় দিন গতকাল রবিবার সকাল থেকে নগরীর প্রধান সড়কে গত দুদিনের তুলনায় গণপরিবহনসহ বিভিন্ন ধরনের অধিকসংখ্যক যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়। গণপরিবহনগুলোতে যাত্রীসংখ্যা খুব বেশি না থাকলেও গত দুদিনের চেয়ে সংখ্যায় বেশি বলে জানিয়েছে বিভিন্ন রুটের চালকরা।

ঈদের সরকারি তিন দিনের ছুটি শনিবার শেষ হয়। রবিবার সরকারি ও বেসরকারি অফিস আদালত, ব্যাংক, বিমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খুলেছে। ফলে অফিসগামী যাত্রীদের অনেকেই গণপরিবহনে নিজ নিজ কর্মস্থলে রওনা হন।

শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, গতকাল সকাল থেকেই মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাট হয়ে হাজার হাজার মানুষ মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে আসতে শুরু করে। লকডাউনের কারণে দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় গন্তব্যে ফিরতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। অনেকেই অতিরিক্ত ভাড়া গুণে বিভিন্ন যানবাহনে করে ভেঙে ভেঙে কর্মস্থলে ফিরেছেন। শিমুলিয়ায় ঢাকার দিক থেকে আসা যাত্রী ও যানবাহনের চাপ একটু কম হলেও মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাটে ঢাকামুখী মানুষের প্রচণ্ড চাপ ছিল। বা?গেরহাট থে?কে আসা কমল মণ্ডল নামের এক যাত্রী ব?ললেন, নিজের জেলা থেকে তিনি ৬০০ টাকা ভাড়া দিয়ে আরো কয়েক জনের সঙ্গে মাইক্রোবাসে করে বাংলাবাজার ঘা?টে পৌঁছেছেন। অন্যসময় এই ভাড়া থাকে ৩০০ টাকা। আর ব?রিশাল শহর থে?কে আসা ফা?তেমা রহমান ব?লেন, বাংলাবাজার ঘা?ট পর্যন্ত আসতেই ৮০০ টাকা খরচ হ?য়ে গেছে। না এসে উপায়ও নেই, অ?ফিস খু?লে গেছে।

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঈদ শেষ হলেও ঘরে ফেরা শেষ হয়নি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের। ঈদের পরদিন শনিবার সকাল থেকে ঘরমুখো মানুষের প্রচুর ভিড় ছিল শিমুলিয়া ফেরিঘাটে। মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাংলাবাজার রুট এখনো ঘরমুখো মানুষের পদচারণায় মুখর। যাত্রীদের পাশাপাশি ফেরিতে হালকা যানবাহনও দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন-বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো ঘরমুখী এবং ঢাকাগামী যাত্রীদের ভিড় আছে ফেরিতে।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি এবং দৌলতদিয়া ও গোয়ালন্দ (রাজবাড়ি) সংবাদদাতা জানিয়েছেন, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া দিয়ে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। তবে এসময় মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি। গতকাল সকাল থেকেই ঢাকামুখী যাত্রী ও ছোট গাড়ির চাপ দেখা যায় ফেরিঘাট এলাকায়। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ছোট-বড় ১৬টি ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। আর প্রতিটি ফেরিতে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে পার হচ্ছে যাত্রী ও যানবাহন।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক ফিরোজ খান বলেন, দৌলতদিয়ায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। চাপ আরো বাড়বে বলে ধারণা করছি। বর্তমানে এ রুটে ১৬টি ফেরি চলাচল করছে।

মহাসড়কে বেড়েছে গাড়ির চাপ : খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ি কম থাকায় যাত্রীদের যে ভোগান্তি ছিল দুপুরের দিকে তা কিছুটা কমে আসে। দুপুরে গাড়ির সংখ্যা বাড়লেও যাত্রীদের সংখ্যা তেমন বাড়েনি। ফলে সকালে যাত্রীদের যে ভোগান্তি ছিল তা কিছুটা কমে। সকালে ঢাকাফেরত যাত্রীদের যেমন ঢল ছিল, তেমনি ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ঈদ উপলক্ষ্যে বাড়িতে যাওয়ার যাত্রীও ছিল প্রচুর। দুপুরের পর থেকে কয়েকটি দূরপাল্লার বাসও চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে এসব বাস রাজধানীতে প্রবেশ না করে যাত্রীদের নারায়ণগঞ্জ সড়কে নামিয়ে দিচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা ফিরতে শুরু করেছে শ্রমজীবী মানুষজন। ফলে সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে বাড়ছে যানবাহনের চাপ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মহাসড়কে চলছে বাস। গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের কড্ডা ও হাটিকুমরুল গোলচত্বরে ঢাকামুখী যাত্রীদের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। বাস, ট্রাক প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, পিকআপ ও ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলে চেপে সপরিবারে ঢাকা ফিরছেন কর্মজীবীরা। গণপরিবহন না থাকায় নির্ধারিত ভাড়ার কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে এসব যানবাহনে। ফলে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে নিম্ন আয়ের যাত্রীদের। এ ছাড়া যাত্রী পরিবহনে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি।