পশ্চিমবঙ্গের সহিংসতাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করলেন গর্ভনর

আপডেট : ১৭ মে ২০২১, ০১:০৪

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন গভর্নর জগদীপ ধনখড়। ঈদের সময়ে কোচবিহারের শিতলকুচি এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় যান তিনি। গত শনিবার নন্দীগ্রাম পরিদর্শনের পর বলেন, ‘এত সহিংসতা, কান্না দেখা যায় না। এই সহিংসতা বন্ধ হোক। রাতে ঘুমাতে পারছি না আমরা। জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির ওপর বসে রয়েছি। মানুষজন ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন। কটূক্তি শুনতে হচ্ছে তাদের। প্রাণহানি, ধর্ষণ, লুটতরাজ, চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে অহরহ।’ তার অভিযোগ, ভোট শেষ হলেও এখনো নন্দীগ্রামে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।

পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন কয়েক জন বিজেপি নেতা। যা নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটি বলেছে, গভর্নর বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। সীমালঙ্ঘন করছেন তিনি।

গত ১০ এপ্রিল ভোটগ্রহণ চলাকালে সহিংসতায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চার জনের মৃত্যু হয়। পরবর্তী সময়ে বিজেপি অভিযোগ তোলে সহিংসতার কারণে দলটির সেখানকার কর্মী, সমর্থকরা ঘর ছাড়া হয়ে আসামে আশ্রয় নিয়েছেন। অন্যদিকে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী জিতলেও বিজেপি সমর্থকরা হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিধানসভায় যোগ দিলেন না বিজেপির দুই এমএলএ

জিতেও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় যোগ দিলেন না বিজেপির জয়ী দুই এমএলএ। লোকসভার এমপি থাকাবস্থাতেই তারা বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতে যান। ভারতের নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী, ছয় মাসের মধ্যে তাদের যে কোনো একটি পদ ছেড়ে দিতে হতো। বিজেপি সিদ্ধান্ত নেয় তারা এমপি থাকবেন। ছেড়ে দেবেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার এমএলএ (মেম্বার অফ লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি) পদটি। এই পদত্যাগের ফলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির সদস্যসংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৫। এই দুই আসনে উপনির্বাচন হবে।

পদত্যাগকারী দুই জন হলেন—নিশীথ প্রামাণিক এবং জগন্নাথ সরকার। নিশীথ প্রামাণিক কোচবিহার এবং জগন্নাথ সরকার নদিয়ার রানাঘাট আসন থেকে জিতে ২০১৯ সালে লোকসভায় এমপি হন। বিজেপির পরিকল্পনা ছিল পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে তাদের মন্ত্রী করা হবে। কিন্তু তৃণমূল ক্ষমতায় আসায় তাদের সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি।