সমকালীন

পথচারীদের পাঠাগার

আপডেট : ১৭ মে ২০২১, ২০:৩৯

 

দুপুরের কাঠফাটা রোদ। রাস্তা প্রায় ফাঁকা। সামনে একটু এগুতে পথের ধারেই মিলল বুকসেলফ ভর্তি বই! দাঁড়িয়ে কেউ বই পড়ছেন। কেউ পছন্দের বই খুঁজে দেখছেন। পথচারীদের জন্য পাঠাগারটি গড়ে উঠেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে। ক্যান্টনমেন্ট সিএসডি মোড় এলাকার গোলচত্বরে এই পাঠাগার। কর্মব্যস্ত জীবনে একটুখানি অবসরে পাঠাগারটি পথচারীদের বিনোদনের খোরাক। মধ্য দুপুরেও বইপ্রেমীদের দুই-একজনকে দেখা যায় বইয়ের মধ্যে বুঁদ হতে।

পাঠাগার আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘হূদয়ে সৈয়দপুর’ পাঠাগারটি গড়ে তুলেছে। এ বছরের ২৯ জানুয়ারি অর্ধশতাধিক বই নিয়ে পথচারীদের পাঠাগারটির যাত্রা শুরু। সৈয়দপুরের বইপ্রেমীদের অনেকেই প্রতিদিন নিয়ম করে আসেন এখানে। প্রত্যেক মাসে নতুন বই তোলা হয়। দৈনিক পত্রিকাও রাখা হয় নিয়মিত। পাঠকদেরও কেউ কেউ নিজের সংগ্রহে থাকা বই এই পাঠাগারে রেখে যান। এখানে আছে একটি রেজিস্ট্রি খাতা। পথচারীদের যে কেউ এই পাঠাগারের সদস্য হতে পারেন। নাম নিবন্ধন করে বাড়িতে নিয়ে গিয়েও বই পড়ার সুযোগ আছে। পাঠাগারটিকে এখন পথচারীরা নিজেদের করে নিয়েছে।

এখানকার নিয়মিত পাঠক মেরিনা আক্তার মৌলি এই পাঠাগার সম্পর্কে বলেন, ‘নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। যান্ত্রিক জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও বই পড়ার জন্য প্রতিদিন কিছুটা সময় বের করার চেষ্টা করছি।’ আরেক পাঠক মুন্না সরকার বলেন, ‘পথচারীদের জন্য গড়ে ওঠা পাঠাগারটিকে আগলে রাখা আমাদের দায়িত্ব। আমি নিজের সংগ্রহ থেকে কিছু বই এই পাঠাগারে দিয়েছি।’

এই পাঠাগারের প্রধান উদ্যোক্তা সোহেল রানা। তাঁর বক্তব্য—প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় স্মার্টফোন এখন হাতে হাতে। বই পড়ার সুযোগ এখন ক’জনেরই বা হয়। এজন্য এই উন্মুক্ত পাঠাগারে সবাইকে বই পড়তে উত্সাহিত করাই আমাদের উদ্দেশ্য। এই ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা সৈয়দপুরে আরো কিছু পাঠাগার গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

খুরশিদ জামান কাঁকন