চার উপনির্বাচনে ইভিএমে ভোট

আপডেট : ১৭ মে ২০২১, ২১:৪৪

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সম্প্রতি শূন্য হওয়া জাতীয় সংসদের চারটি আসনেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংসদ সদস্যের মৃত্যু ও এক সংসদ সদস্য দণ্ডিত হওয়ার কারণে শূন্য হওয়া ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫, সিলেট-৩ এবং লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ভোট হবে। তবে নির্বাচন কবে হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যদিও করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কারণে দেশের সব নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে কমিশন। এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা ইত্তেফাককে জানিয়েছিলেন, আগামীতে জাতীয় সংসদের বেশির ভাগ আসনে ইভিএমে ভোট করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কমিশন। এর অংশ হিসাবে উপনির্বাচনগুলো ইভিএমে করার সিদ্ধান্ত আছে।

ঢাকা-১৪ আসন : আওয়ামী লীগের নেতা আসলামুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা-১৪ আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে সংসদ সচিবালয়। সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব মো. নূরুজ্জামান স্বাক্ষরিত গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সংসদ সদস্য মো. আসলামুল হক গত ৪ এপ্রিল মারা যাওয়ায় ঢাকা-১৪ আসনটি ঐ তারিখে শূন্য হয়েছে।’ আসলামুল হক ২০০৮ সালের নবম সংসদ ও ২০১৪ সালের দশম সংসদেও নির্বাচিত হয়েছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী এ আসনে জুলাইয়ের ২ তারিখের মধ্যে উপনির্বাচন হবে।

কুমিল্লা-৫ আসন : আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল মতিন খসরু মারা যাওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে সংসদ সচিবালয়। সংসদ সচিবালয়ের সচিব ড. জাফর আহমেদ খান স্বাক্ষরিত গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘সংসদ সদস্য আব্দুল মতিন খসরু গত ১৪ এপ্রিল অপরাহ্নে মারা যাওয়ায় এ আসনটি ঐ তারিখে শূন্য হয়েছে।’ সংবিধান অনুযায়ী, আসন শূন্য হলে তার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে ভোট করতে হবে এ আসনে।

লক্ষ্মীপুর-২ আসন : কুয়েতের একটি আদালতে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হওয়ায় স্বতন্ত্র সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুলের লক্ষ্মীপুর-২ আসটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। গত ২৮ জানুয়ারি সাজা হওয়ায় সেদিন থেকেই আসনটি শূন্য হয়। এ আসনের ভোটের সময় ঘোষণা দিয়েছিল ইসি। ১১ এপ্রিলের সেই ভোট করোনার কারণে স্থগিত রয়েছে। ‘দ্বৈব দুর্বিপাক’ কারণ দেখিয়ে ২৭ এপ্রিলের পরবর্তী ৯০ দিনে নির্বাচন করার জন্য সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এ জন্য এ আসনে ভোট করা যাবে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে। 

সিলেট-৩ : আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদ উস সামাদের সিলেট-৩ আসনের নির্বাচন সংবিধান নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে হচ্ছে না। এক্ষেত্রে তার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অর্থাত্ ৮ জুনের মধ্যে ভোট না হয়ে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করবে সংস্থাটি। আসনটি শূন্য হয় গত ১১ মার্চ। অর্থাত্ সংবিধান অনুযায়ী ৮ জুনের মধ্যে ভোট করার বিধান রয়েছে। গত ১১ মার্চ মাহমুদ সামাদ চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি নবম ও দশম সংসদেও এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।