ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অ্যাম্বুলেন্স আছে চালক নেই

আপডেট : ১৭ মে ২০২১, ২১:৫৫

অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

করোনা সংক্রমণের সময়ে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালকের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীসহ স্বজনরা। উন্নত চিকিত্সার জন্য বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যে মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকারসহ বেসরকাফর অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রোগীদের বিভিন্ন হাসপাতালে নিতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি চুরির ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স চালক একাব্বর আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করে কর্তৃপক্ষ। সেই থেকে গ্যারেজে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে অ্যাম্বুলেন্স। পরে ১১ এপ্রিল অ্যাম্বুলেন্স চালক একাব্বর আলী কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে আসলেও বরখাস্তকৃত ঐ চালক দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালার বিধান নেই বলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার জানান, অ্যাম্বুলেন্স চালক না থাকায় প্রায় চার মাস থেকে ফুলবাড়ীর মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তার এলাকায় কয়েক দিন আগে এক দিনমজুর সড়ক দুঘর্টনায় গুরুতর আহত হলে তিনি প্রথমে ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য যোগাযোগ করেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সটি পাননি। পরে বাধ্য হয়ে বেশি টাকায় মাইক্রোবাস ভাড়া করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অসুস্থ রোগীকে নিয়ে যান।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক মিলন জানান, অ্যাম্বুলেন্স চালক না থাকায় প্রায় চার মাস ধরে ফুলবাড়ীর মানুষ অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যেখানে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১০ টাকা, সেখানে ফুলবাড়ী থেকে কুড়িগ্রাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। লালমনিরহাট ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং রংপুর ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে ফুলবাড়ীর জনসাধারণকে। কর্তৃপক্ষ চালকের ব্যবস্থা না করায় জনগণকে এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’ এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, বরখাস্তকৃত চালক একাব্বর আলী জামিনে মুক্ত হলেও তার বরখাস্ত আদেশ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত তাকে দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালানোর বিধান নেই। তবে অ্যাম্বুলেন্স চালকের বিষয়টি মৌখিক ও লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে এটি চালু হবে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমন দাস জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির অ্যাম্বুলেন্সের চালকের ব্যাপারে গুরুত্ব সহকারে খোঁজখবর নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি।