ব্যবসা সহজীকরণের সূচকগুলো
কঠোরভাবে মানতে হবে
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, দেশে ব্যবসা পরিস্থিতির উন্নতির কথা যতক্ষণ ব্যবসায়ীরা না বলবেন, ততক্ষণ বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজ করার সূচকে উন্নতি হবে না। বিশ্বব্যাংকের সূচকে এখনই বাংলাদেশ ৯৯ নম্বরে উঠে আসবে, বিষয়টি এত সহজ নয়। এটি আর এখন বিশ্বাস করি না। গতকাল সোমবার ব্যবসা সহজ করার সূচক নিয়ে এক ওয়েবিনারে সিরাজুল ইসলাম এ কথা বলেন। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজ করার সূচকে বাংলাদেশ দুই অঙ্কের ঘরে নামানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়। সর্বশেষ সূচকে ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬৮তম। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) ও বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই) যৌথভাবে এ ওয়েবিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের কাছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মকর্তার অনৈতিকভাবে টাকা চাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। সিরাজুল ইসলাম একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কিছুদিন আগে একজন বিদেশি বিনিয়োগকারী আমার কাছে অভিযোগ করেন যে, তার কাছে অনৈতিকভাবে অর্থ চেয়ে নাজেহাল করা হয়েছে। অনৈতিক অর্থ না দেওয়ায় যা করযোগ্য নয়, তা-ও কর দাবি করা হয়েছে। ঐ বিদেশি বিনিয়োগকারী বিডার কাছে সমাধান চেয়েছেন। এই ধরনের অনৈতিক লেনদেনের বিষয় আছে, যা ব্যবসা সহজ করার ক্ষেত্রে বাধা। ওয়েবিনারে বিডার পরিচালক জীবন কে সাহা রায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, আরজেএসসিতে নিবন্ধন নিতে গেলে সরাসরি কাজ হয় না। সেখানে গেলে বলা হয়, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আসতে হবে। এভাবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের চক্র গড়ে উঠেছে। বিইআই সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ন কবির বলেন, কোনো অফিসে ফাইল আটকে থাকলে কাউকে বললেও বিপদে পড়বেন। আপনাকে বলবে, ফাইল তো পাওয়া যাচ্ছে না। অনুষ্ঠানে আইবিএফবি সভাপতি হুমায়ন রশিদ বলেন, এমন খাতও আছে, যেখানে ব্যবসা শুরু করতে ২৮টি লাইসেন্স লাগে। প্রতিটি লাইসেন্সের আবেদন যদি নির্দিষ্ট কার্যালয়ে এক মাস পড়ে থাকে, তাহলে ২৮ মাস লাগবে। এমন পরিস্থিতিতে কে ব্যবসা করতে আসবে?
সভায় বক্তারা বলেন, ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদনটি কোনো দেশের প্রতিযোগিতা বা ব্যবসায়ের পরিবেশের সম্পূর্ণ মূল্যায়ন হিসেবে নয়। এটি একটি দেশের বেসরকারি খাতের দ্বারা পরিচালিত নিয়ামক কাঠামোর একটি প্রক্সি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তবে ডুয়িং বিজনেসে উন্নতি করতে হলে এর সূচকগুলো কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
