ঈদের পরদিন বিকালে ঢাকায় প্রচণ্ড ঝড়। যারা পরিবার নিয়ে রাজধানীর আশপাশ এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলেন তারা ঝড়ের ভয়ে দ্রুতই ঘরে ফিরেছেন। কেউ মাঝ পথে শিশুসন্তান নিয়ে ভিজে গিয়েছিলেন। তার পরও একটা প্রশান্তি ছিল যে গরমটা কমেছে। একদিন না যেতেই আবার গরমের তীব্রতা এত বেড়েছে যে, বাইরে বের হওয়াটাই কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। এমন গরমের মধ্যেই গতকাল সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে কাতারগামী জাতীয় প্রাথমিক ফুটবল দলের অনুশীলন শুরু হয়েছে।
খেলোয়াড়রা যখন মাঠে নামছেন তখন মাঠের দিকে চোখই রাখা যাচ্ছিল না। সময় যতই গড়াচ্ছিল সূর্যের তাপও বাড়ছিল। তাতে কী, অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া, সুফিল, সুমন রেজা, সোহেল রানা, মতিন মিয়ারা কোচ জেমির নির্দেশনা মানতে ব্যস্ত। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা যখন তাপ নিয়ে অসহনীয় ভাব। তখন সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নে জেমি উলটো জবাব দিয়ে বললেন, ‘আবহাওয়াটা সহ্য করার মতোই।’
জুনে কাতারে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ভারত, ওমান ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ। অনুশীলনের ফাঁকে পালাক্রমে কথা বলতে এসে কোচ জেমি ডে বলেন, ‘আমরা তিনটি ম্যাচই জয়ের জন্য খেলব। আশা করি ম্যাচগুলো বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। কাতারে অনেক গরম। সেখানে অধিকাংশ ম্যাচ রাতেই হয়। আর সেটি হলে ঢাকার তাপমাত্রার এই অনুশীলন সহায়ক হবে। কারণ সেখানে রাতে তাপমাত্রা প্রায় ত্রিশের মতো থাকে।’
জেমি এবং তার সহকারী ফিটনেস কোচ রাজলগ ব্যস্ত হয়ে পড়লেন খেলোয়াড়দের ফিটনেস পরখ করা নিয়ে। জেমি ঢাকায় আসার আগেই অস্ট্রেলিয়ান ফিটনেস কোচ রাজলগ লিগের ফিরতি পর্বের খেলা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বসে দেখেছেন, প্রতিদিন। সেখানে প্রতিদিনই তাকে কাগজ-কলম নিয়ে বসতে দেখা যেত। কী কী যেন টুকে রাখছেন। জানতে চাইলে প্রকাশ করতেন না। তবে কথায় কথায় অনুমান করা যেত খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য টুকে রাখছেন। সংগৃহিত তথ্যগুলো ইংল্যান্ডে জেমির কাছে পাঠানো হতো। জেমির হাতে পাওয়া সেই তথ্যগুলো কাল পরখ করেছেন। জেমি খেলোয়াড়দের ফিটনেস টেস্টে খুশি হয়েছেন। জেমির কথা হচ্ছে ঈদের দুই দিন আগ পর্যন্তও লিগের খেলা হয়েছে। তা ছাড়া আবাহনী এবং বসুন্ধরা কিংস খেলার মধ্যে ছিল বলে তারাও ফিটনেস টেস্টে এগিয়েই ছিলেন।
প্রথম দিনের অনুশীলনে কোচ জেমি ডে খেলোয়াড়দের ইয়োইয়ো টেস্ট নিলেন। তাতে দেখা যায় অনুশীলনে অংশ নেওয়া প্রায় সবারই স্কোর ছিল ২৫। জেমি নাকি এমনটাই আশা করেছিলেন। তাই হয়তো এটা নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন শুনতে চাইলেন না জেমি। অনুশীলনে কোচ কী কী পরীক্ষা নিলেন জানালেন দলের ফুটবলাররা। ডিফেন্ডার মানিক হোসেন মোল্লা বলেন, ‘ফিটনেসে কার কী অবস্থা যাচাই করে দেখেছেন। যেহেতু আমরা সম্প্রতি লিগ শেষ করেই ছুটিতে গিয়েছিলাম তাই সবার ফিটনেস মোটামুটি ভালো অবস্থাতেই আছে। আমাদের হাতে বেশ সময় আছে। আমরা যদি আরো ভালো অনুশীলন করি তাহলে আরো ভালো করা সম্ভব।’ প্রচণ্ড গরমে অনুশীলন কেমন হচ্ছে? সুফিল মানিকরা মনে করছেন কাতারের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে এটা কাজে লাগবে।
