আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আপন কর্মমহিমায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের নতুন ইতিহাসের নির্মাতা, হিমাদ্রি শিখর সফলতার মূর্তস্মারক, উন্নয়নের কান্ডারি।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল সোমবার সকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি আলোচনাসভায় যুক্ত হন।
এক অন্ধকার সময়ে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসেছিলেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসেছেন বলে আমরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলাম। তার কারণেই মুক্তিযুদ্ধের কথা, বঙ্গবন্ধুর কথা জানতে পেরেছে আমাদের নতুন প্রজন্ম। সাম্প্রদায়িক ধারা থেকে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরিয়ে আনতে শেখ হাসিনা নিরলস সংগ্রাম করে আসছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়। বিশ্বে বাংলাদেশ এক মডেল রাষ্ট্র।
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময়কালে ঘটনা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুর রক্ত ভেজা মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন তার সুকন্যা শেখ হাসিনা। সেদিন মিছিলে মিছিলে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল ঢাকা শহর। কোন্দল আর কলহপূর্ণ আওয়ামী লীগকে তিনি ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলমুক্ত করতে তিনি লড়েছেন আপসহীনভাবে।
করোনার মধ্যেও সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকার কথা উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, আজকে করোনা অনেক কিছুই থামিয়ে দিয়েছে। জীবনের চাকাকে অচল করে দিয়েছে। কিন্তু পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম নদীর নিচে টানেল এটাও শেখ হাসিনার অবদান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য শুনে দুঃখ লাগে। ১২ বছর ধরে আপনারা আইনি লড়াইয়ে রাজপথের লড়াইয়ে, নির্বাচনের লড়াইসহ সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন। নেত্রীর মুক্তির জন্য এই ঢাকা সিটিতে আপনারা কার্যকর একটি বিক্ষোভ করতে পারেননি। সেই অবস্থায় মানবিকতা আছে বলেই শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা স্থগিত করে মুক্তি দিয়েছেন। এই মানবিকতার প্রশংসা আপনারা করেননি।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাদেক খানের সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ প্রান্তে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
