সিলেটে মোটরসাইকেল ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয়

আপডেট : ১৭ মে ২০২১, ২৩:০৬

সিলেটে গড়ে উঠেছে রাইডারদের খুন করে মোটরসাইকেল ছিনতাই চক্র। ছিনতাইকারী চক্রের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সিলেটে মোটরসাইকেল রাইডাররা। রাইড ভাড়া নিয়ে পরপর কয়েকটি খুনের ঘটনা তাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এদিকে খুন করে মোটরসাইকেল ছিনতাই চক্রের চার সদস্যকে গত শনিবার গ্রেফতার করেছে মোগলাবাজার থানা পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই করা মোটরসাইকেল ও মোবাইল।

সূত্র মতে,  মোটরবাইক ছিনতাইয়ের স্পট হিসেবে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার এলাকাকে ঐ চক্র বেছে নিয়েছে। নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে ভাড়ায় চালিত রাইডারদের মোটরসাইকেল নিয়ে ঐ এলাকায় গিয়ে চালককে প্রথমে বাইকসহ থামিয়ে ছিনতাইকারীরা চালককে হাতুড়ি ও পাথর দিয়ে আঘাত করে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।   

গত ১১ মে উবার মোটরসাইকেল চালক রেদওয়ান রশীদ চৌধুরী সৌরভ (৩০) নিখোঁজ হন। সৌরভ ঐ দিন নিখোঁজ হলে সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করে পাওয়া না যাওয়ায় ঈদের আগের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করেন স্বজনরা। পুলিশ সৌরভের মোবাইল ট্র্যাকিং করে দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানার হাজীগঞ্জ মুহাম্মদপুর এলাকার একটি ডোবা থেকে সৌরভের লাশ উদ্ধার করে।

এর আগে গত ৯ এপ্রিল সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের গফুরের বাঁধ এলাকার যাত্রীছাউনির ভেতরে মোটরসাইকেল রাইডার রাজুকে মৃত ভেবে ফেলে গিয়েছিল বাইক ছিনতাইকারীরা। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এক মাস চিকিত্সার পর রাজু বাসায় ফিরলেও মস্তিষ্কে আঘাতের ফলে তিনি এখনো ভারসাম্যহীন অবস্থায় রয়েছেন। রাজু সিলেট নগরীর উত্তর বালুচর আল-ইসলাহ আবাসিক এলাকার মৃত আকদ্দছ আলীর পুত্র।  রাজু গত ৮ এপ্রিল মোটরবাইক নিয়ে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে মোগলাবাজার থানার গফুরগাঁও এলাকার একটি যাত্রীছাউনি থেকে গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। ঐ সময় রাজুর মোটরবাইক, মোবাইল ফোন ও টাকা পয়সা কিছুই পাওয়া যায়নি।

মোটর বাইক ছিনতাই করতে চালককে খুনের ঘটনার নড়েচড়ে বসে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। সৌরভ হত্যাকাণ্ডে শুরু হয় পুলিশের বিশেষ অভিযান। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় মোগলাবাজার থানা পুলিশ চার জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় পুলিশ সৌরভ ও রাজুর ব্যবহূত মোটরসাইকেলও উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় সিলেটের কদমতলী এলাকা থেকে প্রথমে মজিবুর রহমান (২৩) নামের একজনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে মোটরবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। এরপর একে একে মোট চার জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মুজিবকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় তার সঙ্গীয় এনাম আহমদ, দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশিদ চত্বর হতে মোটর বাইকার গোলাম কিবরিয়া রাজুকে ভাড়ায় নিয়ে মোগলাবাজারের মোহাম্মদপুর গফুরের বাঁধ এলাকায় যাত্রীছাউনির সামনে নিয়ে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। রাজু মারা গেছে ভেবে তারা তার লাশ ডোবায় ফেলে রেখে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। একই পদ্ধতিতে রেদোয়ান রশিদ চৌধুরীকেও ওই যাত্রীছাউনির পেছনে হাতুড়ি দিয়ে হত্যা করে লাশ কাদাপানির ডোবায় ফেলে বাইক নিয়ে চলে যায় তারা। এনাম আহমদকে গোলাপগঞ্জ আছিরগঞ্জ বাজার থেকে একই রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। আটক এনামের বাড়ি মোগলাবাজারের ধোপাকান্দি গ্রামে।

তাদের দেওয়া তথ্য মতে, মৌলভীবাজারের রাজনগরের খলাগ্রাম থেকে জুয়েলুর রহমান (৩৬) নামের আরেক জনের হেফাজত হতে রেদোয়ান রশিদ চৌধুরী মোটরসাইকেল (সিলেট হ-১২-২৭০২) উদ্ধার ও তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে একই উপজেলার ধুলিজুরা গ্রামের রায়হান মিয়ার (২৮) হেফাজত হতে রাজুর মোটরসাইকেল (রেজিঃ নং সিলেট মেট্রো-হ-১২-২২৪৫) উদ্ধার ও তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আসামি মুজিবুর রহমানের থেকে ছিনতাইকৃত সৌরভের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। রাজুর মোবাইল ফোনও রবিবার সকালে দক্ষিণ সুরমার দশহাল এলাকা হতে সামছুল ইসলাম নামের একজনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।