চট্টগ্রামের হালদা নদীর দুই পাড়ে কয়েক হাজার ডিম সংগ্রহকারীর প্রতীক্ষার প্রহর যেন ফুরাচ্ছে না। জানা গেছে, নৌকা, জাল ও নানা সরঞ্জামাদি নিয়ে নদীর দুই পাড়ের বিভিন্ন পয়েন্টে গত এপ্রিল থেকে প্রতীক্ষায় আছে প্রায় ৪ হাজার জেলে ও ডিম সংগ্রহকারী। সেই সংগৃহিত ডিম থেকে রেণু পোনা ফোটাতে নদীর পাড়ে প্রস্তুত হয়ে আছে সাতটি সরকারি হ্যাচারি। আর্থিকভাবে অত্যন্ত মূল্যবান দেশের কার্প জাতীয় মাছের একমাত্র প্রাকৃতিক প্রজননস্থল হালদা নদীর রেণু পোনার চাহিদা সারা দেশে খুব বেশি। এই হালদার রুই-কাতল মাছ প্রয়োজনীয় পরিচর্যা পেলে কমপক্ষে ১০ থেকে ২৫ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। এই নদীকে সরকার বঙ্গবন্ধু হ্যারিটেজ ঘোষণা করে এর প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছেন বলে জানান হালদা বিশেষজ্ঞরা।
হালদা বিশেষজ্ঞ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক, চবি হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া ইত্তেফাককে বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও নৌ-পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা নজরদারির মুখে এ বছর হালদায় মা-মাছের ডিম ছাড়ার অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই। প্রাকৃতিকভাবে এপ্রিল থেকে জুন মাসের যেকোনো সময় পূর্ণিমা বা অমাবস্যার জো-তে বড় বড় মা-মাছ প্রবল বজ বৃষ্টিতে ডিম ছেড়ে থাকে। সে কারণে ডিম সংগ্রহের প্রস্তুতি গত এপ্রিল মাস থেকেই নিয়ে রেখেছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে তিনটি জো চলে গেছে। চতুর্থ জোটি আসছে ২৪ মে থেকে ২৮ মে পর্যন্ত। এটি হবে পূর্ণিমার জো। এ বছরও এই জো-তে মাছের ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা আছে। তার আগেও যদি প্রবল বজ্রবৃষ্টি হয় তাহলে জো শুরু হওয়ার আগেও মা-মাছ ডিম ছাড়তে পারে। তিনি আরো বলেন, এরই মধ্যে চট্টগ্রামে কয়েক দফা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হয়ে গেছে, তবে এই বৃষ্টিপাত হালদায় মা-মাছের ডিম ছাড়ার জন্য পর্যাপ্ত ছিল না।
নগরীর সদরঘাট রিভার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজান বলেন, হাটহাজারী থেকে মোহনা পর্যন্ত হালদায় রিভার পুলিশের সার্ভিলেন্স, নজরদারি ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। চোরা-মাছ শিকারিদের পাতা জাল গত দুই-তিন সপ্তাহ দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়। তবে মাছ চোরদের জাল পাতার পরিমাণ গত বছরের চেয়ে এ বছর অনেক কম। রিভার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরো বলেন, অনুকূল পরিবেশে হালদা নদীতে মা-মাছের আনাগোনা গত বছরের চেয়ে এ বছর অনেক বেশি। ফলে মাছ রক্ষায় রিভার পুলিশের দিবা-রাত্রির সার্ভিলেন্স অনেক দূর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়েছে। ঈদের আগে অমবস্যার জো-তে মাছ শিকারিদের একটি চেষ্টা নস্যাত্ করা হয়। তিনি বলেন, আগামী পূর্ণিমার জো শুরু হচ্ছে ২৪ মে। এ সময় বজ বৃষ্টিতে ডিম ছাড়ার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে রিভার পুলিশ সতর্ক টহল বৃদ্ধি করেছে। গত বছরও মা-মাছ ২৯ মে পূর্ণিমার জো-তেই ডিম ছেড়েছিল।
উল্লেখ্য, গত বছর মা-মাছ বিগত ১৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডিম ছাড়ে। সাধারণত মাছ মৌসুমে একবারই ডিম ছাড়ে। কিন্তু গত বছর পরপর দুই থেকে তিন বার মা-মাছ ডিম ছাড়ে।
