রাজশাহী জেলা পরিষদের অধীন ডাকবাংলো

একটি পরিত্যক্ত অন্যটি জরাজীর্ণ

আপডেট : ১৮ মে ২০২১, ২১:২০

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

রাজশাহী জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া ডাকবাংলো প্রায় দুই যুগ ধরে পরিত্যক্ত। বিড়ালদহ-মাইপাড়া এলাকায় অবস্থিত অপরটিও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়রা বলছেন, কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব ও সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় ডাকবাংলো দুইটি ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, একসময়ের খড়স্রোতা নদী মুসাখাঁ তীরে ও উপজেলার ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে ব্রিটিশ আমলে এক একর ২২ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠত হয় ঝলমলিয়া ডাকবাংলো। স্বাধীনতার পর বাংলোটি নামমাত্র দুই-এক বার সংস্কার করা হলেও প্রায় দুই যুগ থেকে কর্তৃপক্ষের আর কোনো নজরদারি নেই। অবহেলা ও অযত্নে বাংলোটি পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। অপরটি বিড়ালদহ-মাইপাড়া এলাকায় অবস্থিত। সেখানে সর্বশেষ গত ছয় বছর আগে নামমাত্র সংস্কারকাজ করা হয়। বর্তমানে ঐ বাংলোতে দেখভাল কাজে নিয়োজিত এক প্রহরী তার পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না করায় বাংলোর চারপাশে ঝোপঝাড় হয়ে গেছে। চার চালা টিনের একটি অতিথিশালার দরজা-জানালা তালাবদ্ধ। পাশে দুইটি আবাসিক ভবনে ওপরের চালা, দরজা জানালা নেই। শুধু চারপাশের দেওয়াল দাঁড়িয়ে আছে। আবার কোনো কোনো দেওয়ালের বেশির ভাগ ইট কে বা কারা খুলে নিয়ে গেছে। এলাকাবাসী আমজাদ আলী বলেন, স্বাধীনতার পর কয়েক বছর ঝলমলিয়ার বাংলোটিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অতিথিদের আগমন ছিল। এখন বাংলোটি ভূতুরে এলাকায় পরিণত হয়ে আছে।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবুল ফজল বলেন, পুঠিয়া রাজপরগনা এলাকায় বেড়াতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের রাত্রীযাপনের মতো এখানে কোনো বাসস্থান নেই। তাই আমি নির্বাচিত হওয়ার পর পরিষদের প্রথম অধিবেশনে বাংলোটি সংস্কারের বিষয়ে জানিয়ে ছিলাম। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পরিষদ মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করে। ইতিমধ্যে ঝলমলিয়া ‘ডাকবাংলো কাম কমিউনিটি সেন্টার’ নির্মাণে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে অর্থ ছাড় না হওয়ায় এখনো কাজ শুরু হয়নি। অপরদিকে বিড়ালদহ-মাইপাড়া এলাকার ডাকবাংলোটি গত কয়েক বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে কিছু সংস্কারকাজ করা হয়েছে।