লকডাউনেও দুধের ভালো দাম পেয়ে খুশি বেড়ার খামারিরা

আপডেট : ১৮ মে ২০২১, ২১:২৩

বেড়া (পাবনা) সংবাদদাতা

করোনা মহামারির কারণে গত বছরের লকডাউনে দুধ নিয়ে চরম দুর্দশায় পড়েছিলেন বেড়ার খামারিরা। দুধ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো খামারিদের কাছ থেকে দুধ কেনা কমিয়ে দেওয়ায় খোলা বাজারে পানির দরে দুধ বিক্রি করতে হয়েছিল তাদের। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ননি তুলে রেখে ঐ দুধ ফেলেও দিতে হয়েছিল। এভাবে খামারিদের ব্যাপক লোকসান হয়েছিল। তবে এবারের লকডাউনে দুধ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো খামারিদের কাছে ধরনা দিয়ে ও দাম বাড়িয়েও প্রয়োজনীয় দুধ পাচ্ছে না। খামারিরা প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে খোলা বাজার ও ছানা তৈরির কারখানায় চড়া দামে দুধ বিক্রি করছেন। এতে দারুণ খুশি খামারিরা।

গরুর দুধের ওপর নির্ভর করে এলাকার গড়ে উঠেছে সরকারি মিল্ক ভিটা এবং বেসরকারি প্রাণ ডেইরি, আড়ং দুধ, ফার্ম ফ্রেস, পিউরা মিল্ক, ইছামতি ডেইরি, আফতাব ডেইরি, রংপুর ডেইরিসহ বেশ কিছু দুধ সংগ্রহকারী ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান। উত্পাদিত দুধের বেশির ভাগই এসব প্রতিষ্ঠান সংগ্রহ করে সারা দেশে বিপণন করে। এসব প্রতিষ্ঠান দুধ সংগ্রহ কমিয়ে দিলে পানির দরে খোলা বাজারে দুধ বেচতে হয় খামারিদের। খামারিরা জানান, সরকার এবার লকডাউনের ঘোষণা দেওয়ার পর খামারিরা দুশ্চিন্তায় পড়েন। কিন্তু এবারে লকডাউনের পরে কঠোর লকডাউন এসেছে অথচ দুধের চাহিদা না কমে উলটো বেড়েছে। খামারিদের মতে, রমজান মাস ও ঈদের কারণে স্থানীয় ছানা তৈরির কারখানা, হোটেল এবং খোলা বাজারে দুধের চাহিদা এবং দাম ব্যাপক বেড়েছে। এর সঙ্গে সারা দেশে চাহিদা বাড়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোও দুধ সংগ্রহের পরিমাণ ও দাম বাড়িয়েছে। এতে সব মিলিয়ে খামারিদের দুধ বিক্রিতে ভালো লাভ হচ্ছে।

বেড়া পৌর এলাকার খামারি মাহফুজা মীনা বলেন, আমার খামারে প্রতিদিন ২৫০ লিটার দুধ হয়। দুই-তিন সপ্তাহ আগেও একটি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠানে গড়ে ৪৮ টাকা লিটার দরে ১৫০ লিটার দুধ দিতাম। এখন ঐ প্রতিষ্ঠানে দুধ না দিয়ে পুরোটাই স্থানীয় হোটেল ও খোলা বাজার ৭০ থেকে ৮০ টাকা লিটার দরে বিক্রি করছি। গোখাদ্যের দাম বাড়লেও এমন দামে আমরা খামারিরা বেশ খুশি।

প্রাণ ডেইরির সহকারী মহাব্যবস্থাপক ইফতিখারুল ইসলাম বলেন, লকডাউনের আগে থেকেই চাহিদা অনুযায়ী দুধ পাচ্ছিলাম না। প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ লিটারের জায়গায় দুধ পাচ্ছিলাম ৪০ থেকে ৫০ হাজার লিটার মাত্র। এর মধ্যে দুধের দামও বেশ বাড়িয়েছি। তারপরেও গত দুই দিন ধরে দুধ প্রায় পাচ্ছিই না বলা চলে।

বেড়া পৌরসভার আমাইকোলা গ্রামে অবস্থিত আরেক দুধ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান পিউরা মিল্কের মালিক আব্দুর রউফ বলেন, গতবারের লকডাউনের সময় অনেক খামারি দুধ ফেলে পর্যন্ত দিয়েছেন। কিন্তু এবার আমরা দুধের দাম লিটারে আট থেকে ১০ টাকা বাড়িয়ে ও খামারিদের কাছে ধরনা দিয়েও দুধ পাচ্ছি না। দুধের এত দাম জীবনে দেখিনি। আমার প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন কমপক্ষে ১২ হাজার লিটার দুধের চাহিদা থাকলেও কোনো দুধই পাচ্ছি না।

বেড়া পৌরসভার আমাইকোলা গ্রামের একটি ছানা তৈরির কারখানার ব্যবস্থাপক ওয়াজেদ আলী বলেন, লকডাউন নিয়ে ভয়ে ছিলাম। কিন্তু এবার দুধ ও ছানা দুটোরই চাহিদা বেড়েছে। এখন আমরা লিটারে আট থেকে ১০ টাকা দাম বাড়িয়েও প্রয়োজনীয় দুধ পাচ্ছি না।