সমন্বিত উদ্যোগে উন্নয়ন কাজ শেষ করা জরুরি

আপডেট : ১৮ মে ২০২১, ২১:৪৭

বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষের ঢাকায় আসার পথের দুঃখ—গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে মহাখালী বিশেষ করে চৌরাস্তা থেকে আবদুল্লাহপুর রাস্তা। ময়মনসিংহ থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত আসতে সময় লাগে দেড়-দুই ঘণ্টা। আর চৌরাস্তা থেকে মহাখালী আসতে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা লাগে। বিশেষ করে চৌরাস্তা থেকে আবদুল্লাহপুর মাত্র ১২ কিলোমিটার রাস্তা পার হতে সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। যেখানে দুই আড়াই ঘণ্টা হাঁটলেই এ পথ ফুরোয়। ধুলোবালি তো আছেই। খানাখন্দে ভরা রাস্তা, হেলেদুলে চলছে বাস, ট্রাক, লরি ইত্যাদি। দুর্ভাগ আরো বাড়িয়েছে বিআরটি প্রকল্পের মন্থরগতি। বিমানবন্দর-গাজীপুর র্যাপিড বাস ট্রান্সপোর্ট বা বিআরটি লাইন প্রকল্প। এর মধ্যে রয়েছে ২৫টি বিআরটি স্টেশন, গাজীপুরে ডিপো, গাজীপুর এবং বিমানবন্দরে দুটি টার্মিনাল, ছয়টি উড়াল সেতু, সংযোগ সড়কের উন্নয়ন, ২০.৫ কিলোমিটার ফুটপাতের উন্নয়ন, ২৪ কিলোমিটার পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ১০টি কাঁচাবাজার নির্মাণ।

এ রাস্তার যানবাহন ৫-১০ গজ যাচ্ছে আর দু-তিন মিনিট থামছে, আবার একটু এগোচ্ছে, এভাবেই ধুঁকে ধুঁকে পাড়ি দিচ্ছে চৌরাস্তা-আবদুল্লাহপুর ১২ কিলোমিটার পথ। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা এবং বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত যানজট থাকে মারাত্মক। গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি-ধান-ইক্ষু গবেষণার জাতীয় পর্যায়ের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া টঙ্গী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে গড়ে উঠেছে বহু শিল্পকারখানা। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে রাজধানীতে আসা যাত্রীবাহী বাস ও অন্য যানবাহন ঢাকা শহরে প্রবেশের আগে জয়দেবপুর চৌরাস্তায় এসে পড়তে হয় বিরক্তিকর দীর্ঘ যানজটে। একই অবস্থা ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া যানবাহনের ক্ষেত্রেও। সেগুলো আটকা পড়ে টঙ্গী সেতু থেকে। দেখা যাচ্ছে যে, এই প্রকল্পগুলোর কোনো সমন্বয় নেই। কারণ সড়কের একটি অংশ মেরামত করা হচ্ছে, কিছুদিন যেতে না যেতেই সেই অংশ আবার ভাঙা হচ্ছে। যেমন উড়াল সেতু তৈরি করতে গিয়ে পিলার স্থাপন করা হচ্ছে তাতে রাস্তা নষ্ট হচ্ছে, সেই ভাঙা রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে আবার। সেই অংশে পয়ঃনিষ্কাশনের কাজ করা হচ্ছে, তখন আবার সেই অংশ ভাঙা হচ্ছে, তারাও সেই ভাঙা অংশ মেরামত করছে। কিছুদিন পর আবার সড়ক উন্নয়নের কাজ হচ্ছে, তখন আবার ভাঙা হচ্ছে সেটা। এভাবে একই রাস্তা বারবার ভাঙা এবং মেরামত হচ্ছে। ফলে প্রকল্পের খরচ বাড়ছে এবং জনগণের সম্পদ অপচয় হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে জনদুর্ভোগ।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষ উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকায় আসতে গেলে এই দুর্ভোগে অনেকে মৃত্যুবরণ করে। এই দুর্ভোগের সমাধানে অতীব জরুরি সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত উন্নয়ন কাজ শেষ করা।

শাহজাহান আলী মূসা

শিক্ষার্থী, ইউনির্ভাসিটি অব সাউথ এশিয়া,

বনানী, ঢাকা