বজ্রপাতে শিশুসহ আট জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় সাত কৃষক এবং হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, জেলার কেন্দুয়া, মদন ও খালিয়াজুরীতে মাঠে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে সাত জন কৃষক মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে তিন উপজেলায় পৃথক এই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হন আরো ৯ জন। মারা যাওয়া কৃষকেরা হলেন কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের বৈরাটী গ্রামের মো. বায়েজিদ মিয়া ও কান্দিউড়া ইউনিয়নের কুণ্ডলী গ্রামের মো. ফজলুর রহমান। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে বায়েজিদ মিয়া ও ফজলুর রহমান তাদের নিজ নিজ বাড়ির সামনে সবজি ও ধানখেতে কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাত্ মুষলধারে বৃষ্টির একপর্যায়ে বজ্রপাতে তাদের শরীর ঝলসে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের খেলু ফকিরের ছেলে কৃষক অছেক মিয়া, একই গ্রামের আমির সরকারের ছেলে বিপুল মিয়া ও বাতুয়াইল গ্রামের মঞ্জুরুল হকের ছেলে মনির ঐ এলাকার বরবরিয়া হাওরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা যান। এদিকে মদন উপজেলার পশ্চিম ফতেপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে হাফেজ মো. শরীফ ও একই গ্রামের মৃত আব্দুল মন্নাফের ছেলে মাওলানা আতাবুর রহমান ফতেপুর এলাকার একটি হাওরে বজ্রপাতে নিহত হন। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সি বজ্রপাতে সাত জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, গতকাল মঙ্গলবার বেলা ৩টায় বজ্রপাতে সদর ইউনিয়নের ছোট আলীপুর গ্রামের ইসমাইল মিয়ার ছেলে নাছির মিয়া (১০) নামের এক শিশু মারা গেছে। আহত নাছিরের বড় ভাই ফয়ছল মিয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় হবিগঞ্জ আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নাছির মিয়া ও ফয়ছল মিয়া স্থানীয় বেতুয়ার হাওরে মাছ ধরতে গেলে বজ্রপাতে হতাহত হয় বলে জানা গেছে।
