ভারতে নারদ স্ট্রিং অপারেশন কাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গের দুই মন্ত্রীসহ চার জনকে গ্রেফতারের ঘটনায় উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতি। সোমবার এই চার জনকে নিম্ন আদালত (সিবিআইর বিশেষ আদালত) জামিন দেয়। কিন্তু এদিনই কলকাতা হাইকোর্ট জামিন আদেশ স্থগিত করে। তৃণমূল নেতারা বলছেন, জামিন আদেশ স্থগিত করে জেলে প্রেরণ অবৈধ। এই যুক্তিতে গতকাল মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছেন তারা। কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল আবেদন গ্রহণ করেছেন। আজ বুধবার এই আবেদনের ওপর শুনানি হবে। একই সঙ্গে ভারতের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই ঐ চার জনকে হেফাজতে রাখার যে আবেদন করেছিল তার পূর্ণাঙ্গ শুনানি হবে। হাইকোর্টের রায় বিরুদ্ধে গেলে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে সিবিআই আগাম ক্যাভিয়ট (সতর্কীকরণ) করার ভাবনা-চিন্তা করছে। যাতে সিবিআইকে মামলায় যুক্ত না করে সুপ্রিম কোর্ট একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে পারে।
তৃণমূল সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশনা বলছে কোভিড পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনে গ্রেফতার করা যাবে না। এক্ষেত্রে চার্জশিট হয়ে গেছে। তাহলে গ্রেফতার এবং জেলে প্রেরণ কেন?? যদিও গত সোমবার মধ্যরাতে নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিন বাতিল করে দিলেও গ্রেফতার হওয়া তৃণমূলের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত মুখার্জি, সাবেক মন্ত্রী মদন মিত্র এবং কলকাতা পৌরসভার সাবেক মেয়র শোভন চ্যাটার্জিকে সিবিআই-এর দাবি অনুযায়ী তাদের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়নি কলকাতা হাইকোর্ট। নির্দেশ দেন জেলে রাখতে। অভিযুক্ত চার নেতার আইনজীবীরা বলছেন, তাদের বক্তব্য না শুনেই জামিন পাওয়ার পরেও তা খারিজ করা হয়েছে।
এদিকে জেলে গত সোমবার মধ্য রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিন জন। ৭৫ বছর বয়সি পশ্চিমবঙ্গের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জেল থেকে এসএসকেএমের উডবার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ভোরে প্রেসিডেন্সি জেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক দুই মন্ত্রী মদন মিত্র ও শোভন চ্যাটার্জি। দুই জনেরই শ্বাসকষ্ট হওয়ায় তাদের এসএসকেএমের উডবার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। শ্বাসকষ্ট হওয়ায় অক্সিজেন দেওয়া হয়। প্রত্যেককেই আলাদা কেবিনে রাখা হয়েছে। কলকাতা পৌরসভার প্রশাসকমণ্ডলির প্রধান এবং পশ্চিমবঙ্গের পরিবহন ও আবাসন দপ্তরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এখন প্রেসিডেন্সি জেলে রয়েছেন।
সোমবার দিনভর তৃণমূলের চার নেতা-মন্ত্রীকে গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে কলকাতা। তৃণমূলের গ্রেফতার হওয়া নেতা, মন্ত্রীদের আইনজীবীদের বক্তব্য, সিবিআই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই অনৈতিকভাবে গভর্নরকে দিয়ে অনুমতি নিয়েছে। গভর্নরের এই এক্তিয়ার নেই। অভিযুক্তরা প্রথম থেকেই তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ লোপাট করা বা সাক্ষীদের প্রভাবিত করার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা-ও ভিত্তিহীন। মামলায় চার্জশিট হয়ে গেছে, তাই আটকে রাখার কোনো কারণ নেই। বুধবার এই বক্তব্যই হাইকোর্টে জানাবেন তারা।
