রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান রক্ষায় এক যুগ আগে রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। রায়ে এক বা একাধিক কমিটি গঠন করে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদানের স্থানসহ সাতটি স্থান চিহ্নিত করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল। একই সঙ্গে স্মৃতিবিজড়িত ঐসব স্থানে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও বিবেচনাপ্রসূত দৃষ্টিনন্দন ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ ও সংরক্ষণের নির্দেশনা ছিল। উচ্চ আদালতের এই রায় অনুসারে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ঘিরে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে তার খতিয়ান চাওয়া হয়েছে আদালত অবমাননার একটি মামলায়। উন্নয়ন প্রকল্পের যাবতীয় নকশা ও পরিকল্পনার বিস্তারিত নথি আদালতে দাখিলের আবেদন জানিয়েছেন মামলার বাদী।
এ প্রসঙ্গে আদালত অবমাননা মামলার আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ইত্তেফাককে বলেন, এই উদ্যান ঐতিহাসিকভাবে সংরক্ষণের জন্য হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল। উদ্যানকে ঘিরে সরকারের নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্প সেই রায়ের আলোকে হচ্ছে কি না তা আমরা জানি না। এজন্য আদালত অবমাননা মামলায় উন্নয়ন প্রকল্পের নথি তলবের আবেদন করেছি।
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে এক রিট মামলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় তা সংরক্ষণে ২০০৯ সালে এ রায় দিয়েছিলেন। রায়ে বিচারপতি খায়রুল হক বলেন, ঢাকার রমনা রেসকোর্স তথা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকা নিছক কোনো এলাকা নয়। এই এলাকাটি ঢাকা শহর পত্তনের সময় হতে এ পর্যন্ত একটি বিশেষ এলাকা হিসেবে পরিগণিত। এর একটি ঐতিহাসিক ও পরিবেশগত মূল্য রয়েছে। শুধু তাই নয়, আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতা আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু এই এলাকা। এই পরিপ্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ এলাকাটি একটি বিশেষ এলাকা হিসেবে সংরক্ষণের দাবি রাখে। এখানে এমন কোনো স্থাপনা থাকা উচিত নয় যা এই এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্যকে বিন্দুমাত্র ম্লান করে। আর পরিবেশগত দিক থেকে রমনা রেসকোর্স ময়দান (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ঢাকা শহরের দেহে ফুসফুসের মতো অবস্থান করছে। কোনোভাবেই একে রোগাক্রান্ত করা যায় না।
বিচারপতি খায়রুল হক রায়ে আরো বলেন, যেহেতু স্মরণকাল হতে এটি ঐতিহাসিক উদ্যান হিসেবে পরিচিত, সেহেতু এই সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যান’ আইনে দেওয়া সংজ্ঞার আওতাধীন এই জায়গার শ্রেণি সাধারণভাবে অপরিবর্তনীয়। একে অনাবশ্যক স্থাপনা দ্বারা ভারাক্রান্ত করা অবৈধ হবে। এসব কারণে উক্ত উদ্যান থেকে সব ধরনের স্থাপনা ও প্রতিবন্ধকতা অবিলম্বে অপসারণ করার দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা নিশ্চিতভাবে সরকারের ওপর ন্যস্ত। কারণ মহাকালের বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী এই রেসকোর্স ময়দান।
