ক্ষণজন্মা শওকত ওসমান

আপডেট : ১৯ মে ২০২১, ২১:১০

গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস, নাটক, কবিতা থেকে শুরু করে সাহিত্যের প্রায় সব অঙ্গনেই ছিল তাঁর পদচারণা। বরেণ্য এই সাহিত্যিকের জন্ম ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি আর মৃত্যু ১৪ মে, ১৯৯৮। শওকত ওসমান নামে পরিচিত হলেও তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান। চরম অভাব-অনটনের মধ্যে পার হয়েছে তাঁর শৈশব ও কৈশোর। তাঁর ‘স্বগ্রাম স্বজন’ বইতে রয়েছে সেসব কথা।

শওকত ওসমানের গ্রন্থ-সংখ্যা শতাধিক হলেও তাঁকে খ্যাতির শিখরে নিয়ে গেছে ‘জননী’ও ‘ক্রীতদাসের হাসি’। তিনি শুধু সাহিত্য সাধনা করেনি, দেশ ও জাতির প্রয়োজনে রাজপথেও এসে দাঁড়িয়েছেন। শ্রমিকদের প্রতি ছিল তাঁর গভীর ভালোবাসা। আর সে কারণেই সাংবাদিক-সাহিত্যিক সন্তোষ গুপ্ত তাঁকে আখ্যায়িত করেছেন বাংলার ‘গোর্কি’ হিসেবে। কারণ ম্যাক্সিম গোর্কি ও শওকত ওসমান দুজনের লেখাতেই প্রাধান্য পেয়েছে দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জীবনের বর্ণনা। শওকত ওসমান প্রায়ই আক্ষেপ করে বলতেন, ‘আমেরিকানরা যখন রকেটে চড়ে চন্দ্রপৃষ্ঠে পা দিয়েছে, তখনো আমাদের দেশের গরিব রিকশাচালক ভারবাহী পশুর ন্যায় অন্য মানুষকে কাঁধে বয়ে বেড়াচ্ছে। তারপরেও আমাদের চৈতন্যোদয় হলো না।’ আর ইতালির প্রখ্যাত মার্ক্সবাদী আস্তানিও গ্রাসামির কথা ধার করে বলতেন, ‘পুরাতন মৃত্যুর পথে নতুন প্রচণ্ড প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে জন্মলাভের জন্য কঠিন লড়াইয়ে লিপ্ত। এই ক্রান্তিকালে দেশে নানা কিসিমের রোগ বিকারগ্রস্ত আলামতের প্রাদুর্ভাব ঘটে।’ এই মারাত্মক  আত্মোপলব্ধির কারণেই হয়তো হুমায়ুন আজাদ শওকত ওসমানকে বলতেন ‘অগ্রবর্তী আধুনিক মানুষ’।

তানভীর তানিম