মুম্বাই উপকূলে বার্জডুবি ২২ মৃতদেহ উদ্ধার

আপডেট : ১৯ মে ২০২১, ২১:১৪

ঘূর্ণিঝড় তকতের তাণ্ডবে মুম্বাই উপকূলে ডুবে যাওয়া বার্জের ৫১ আরোহীর খোঁজ এখনো মেলেনি বলে জানিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী। সোমবার ২৬১ আরোহী নিয়ে পি৩০৫ নামের বার্জটি ডুবে যায়। এদের মধ্যে বুধবার পর্যন্ত ১৮৮ জনকে উদ্ধার ও ২২ জনের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া গেছে। খবর এনডিটিভির।

ভারতে অয়েল অ্যান্ড নেচারাল গ্যাস করপোরেশনের (ওএনজিসি) নিখোঁজ ৫১ কর্মীর পাশপাশি ভারতীয় নৌবাহিনীকে এখন আরো কয়েকটি নৌযানে আটকা পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চালাতে হচ্ছে। ডুবে যাওয়া বার্জ পি৩০৫ থেকে উদ্ধার করা ১৮৮ জনকে নিয়ে বুধবার সকালে ভারতীয় নৌবাহিনীর রণতরী আইএনএস কোচির মুম্বাই বন্দরে প্রবেশের একটি ভিডিও টুইট করেছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়। এতে বলা হয়, ‘বার্জ পি৩০৫-এর উদ্ধারকৃতদের নিয়ে আজ সকালে মুম্বাই বন্দরে প্রবেশ করছে আইএনএস কোচি। নৌবাহিনীর জাহাজ ত্যাগ, বেতওয়া ও বিয়াসের পাশাপাশি পি৮আই এয়ারক্রাফট ও সী কিং হেলিকপ্টারের অনুসন্ধান ও উদ্ধার তত্পরতা অব্যাহত আছে।’ উদ্ধার করা লোকজনকে নিয়ে আইএনএস কলকাতাও বুধবার মুম্বাই ফিরেছে বলে জানিয়েছে পিটিআই।

বার্তা সংস্থা পিটিআইকে পি৩০৫-এ থাকা ১৯ বছর বয়সি মনোজ গাইত বলেছেন, ‘বার্জের পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। আমি ভাবিনি যে বাঁচতে পারব। কিন্তু বেঁচে থাকতে হবে এই তাগিদ থেকে আমি পানিতে সাত-আট ঘণ্টা সাঁতরাই, পরে নৌবাহিনী আমাকে উদ্ধার করে।’ ওএনজিসির সঙ্গে চুক্তিতে থাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম আফকনসের বার্জ পি৩০৫-এর পাশাপাশি গাল কনস্ট্রাকটর ও সাপোর্ট স্টেশন-৩ নামে আরো দুটি বার্জ মুম্বাই উপকূলের তেলক্ষেত্রে মোতায়েন করা ছিল। ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে সমুদ্রে আটকা পড়া গাল কনস্ট্রাকটরের ১৩৭ আরোহীর সবাইকে মঙ্গলবার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের কোস্ট গার্ড।

কয়েক দশকের মধ্যে আরব সাগরে সৃষ্ট সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় তকতে গুজরাট, মহারাষ্ট্র, কেরালা, কর্ণাটক ও গোয়ায় কয়েক ডজন মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে; অসংখ্য ঘরবাড়ি, ফসল ও বৈদ্যুতিক খুঁটির ক্ষতি করেছে।