স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর
রংপুরে বৈরী আবহাওয়ায় হাঁড়িভাঙা আমের ফলন কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান মন্ডল জানিয়েছেন, রংপুরে এবার ব্যাপক হারে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছে। জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঐ আম বাজারে উঠতে শুরু করবে। তিনি জানান, চলতি বছর রংপুরের আট উপজেলায় ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমির আমবাগানে ফলন এসেছে। এর মধ্যে রংপুর শহর এলাকায় ২৫ হেক্টর, সদর উপজেলায় ৬০ হেক্টর, কাউনিয়ায় ১০ হেক্টর, গঙ্গাচড়ায় ৩৫ হেক্টর, মিঠাপুকুরে ১ হাজার ২৫০ হেক্টর, পীরগঞ্জে ৫০ হেক্টর, পীরগাছায় ৫ হেক্টর, বদরগঞ্জে ৪০০ এবং তারাগঞ্জ উপজেলায় ১৫ হেক্টর রয়েছে। এরমধ্যে বেশির ভাগই হাঁড়িভাঙা আম।
মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকার আমবাগান মালিক সোলেমান আলী বলেন, গাছে মুকুল এবারে যা এসেছে তাতেই চলতো। কিন্তু বৈশাখ মাসে ঝড়ের কারণে আম ঝরে পড়েছে। ফলে ফলন যে কমে যাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। এদিকে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নাটারাম এলাকার বাগান মালিক মুকুল মিয়া বলেন ভিন্ন কথা। তার মতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগান মালিকরা আম চাষে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন বর্তমানে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করছেন বদরগঞ্জ উপজেলার আমচাষিরা। তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষিরা সাধারণত মাটিতে হরমোন প্রয়োগ করেন। ফলে গাছে প্রচুর পরিমাণে মুকুল আসে এবং ডালেডালে প্রচুর আম দেখা যায়। কিন্তু ঐ আমগুলো যখন বড় হতে থাকে তখন অনবরত ঝরতে থাকে। এতে করে চাষিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অথচ এটি যে খুবই স্বাভাবিক ঘটনা চাষিরা তা বোঝার চেষ্টা করেননি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বদরগঞ্জ উপজেলা কার্যালয়ের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলেন, এবারে হাঁড়িভাঙা আম গাছে তুলনামূলকভাবে খুবই কম মুকুল এসেছে। ফলে গাছেও কম আম ধরেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন খড়ার কারণে মাটিতে রসের ঘাটতি হওয়ায় গাছ থেকে আম ঝরেছে। বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা মো. জোবাইদুর রহমান বলেন, শুধু খড়া নয়, মাটিতে খাদ্য ঘাটতি হলেও আম ঝরতে পারে। তবে চাষিদের বাগানে সেচ দেওয়াসহ অনুখাদ্য প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
