অধিক উত্তাপ জ্বরে পরিণত হইয়াছে

আপডেট : ১৯ মে ২০২১, ২১:৩৪

সম্প্রতি পত্রিকান্তরে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হইয়াছে—ভেজাল বিটুমিনে ১০ বত্সরে গচ্চা গিয়াছে ৩ লক্ষ কোটি টাকা! খবরে বলা হইয়াছে, আমদানি পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি ও তদারকির অভাবে নিম্নমানের বিটুমিন আমদানি হইতেছে এবং সরকারনির্ধারিত কোনো মান-পরীক্ষার সম্মুখীন হইতে হয় না এই আমদানিকারকদের। ইহার ফলে দেদার আমদানি করা হইতেছে নিম্নমানের বিটুমিন। ইহা ছাড়াও, সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে বিটুমিন গলানো, পাথরের সহিত বিটুমিনের মিশ্রণে যেই নিয়ম মানিয়া চলা দরকার তাহাও যথাযথভাবে মানা হইতেছে না। ফলে বহু ক্ষেত্রেই দেশের ৬০ হইতে ৭০ শতাংশ সড়ক নির্মাণের পর ছয় মাস হইতে এক বত্সরের মধ্যেই নষ্ট হইয়া যাইতেছে।

সমস্যাটি কেবল বিটুমিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নহে। সমস্যা বরং কোথায় নাই—তাহাই আতশ কাচ দিয়া দেখিতে হইবে। ব্যথা তো নির্দিষ্ট একটি জায়গায় নহে, সর্ব অঙ্গে। ঠগবাজিতে গাঁ উজার হইবার উপক্রম। এমনকি যেইখানে বসিয়া ইহা লেখা হইতেছে, সেই জায়গাটিও কি সমস্যার বাহিরে? পূর্বে বলা হইত—মাছের পচন ধরে মাথা হইতে। আর এখন দেখা যাইতেছে, পচন ছড়াইয়া পড়িয়াছে লেজের দিকেও; কিন্তু কেন এমন হইতেছে? কেন উত্তপ্ত হইয়া উঠিতেছে বাতাস? বিজ্ঞান বলে, কোনো স্থানে বাতাস খুব অধিক গরম হইয়া গেলে উহাকে ঠান্ডা করিতে ঝড় সৃষ্টি হয়। একইভাবে প্রতিনিয়ত বিশ্রী আর ভ্যাপসা গরমের দাপট মিলাইতে সাগরের বুকে নিম্নচাপ সৃষ্টি হইবেই। তাহা কেবল সময়ের ব্যাপার। আর অধিক বাড়াবাড়ি হইলে সেই নিম্নচাপ হইতে ভয়ানক ঝড়ও সৃষ্টি হইতে পারে। উহা লন্ডভন্ড করিয়া দিতে পারে সকল কিছু। অর্থাত্ প্রকৃতিতে অধিক উত্তাপ দীর্ঘকাল বজায় থাকিলে উহার ভারসাম্য আনিতে বড় ঝড় সৃষ্টি হইতেই হয়। তেমনি মানুষের শরীরেও স্বাভাবিক উত্তাপ থাকিতেই হইবে। উত্তাপ একদমই থাকে না মৃত মানুষের শরীরে। তবে জীবিত কাহারো কম উত্তাপ থাকিলে হাইপোথার্মিয়ার সমস্যা সৃষ্টি হইবে, আর উত্তাপ অধিক হইলে উহা জ্বরে পরিণত হইবে। অর্থাত্ উত্তাপ হইতে হইবে ভারসাম্যপূর্ণ। কম হইলেও বিপদ, অধিক হইলেও বিপদ। সেই যে বলা হইয়াছে, ‘অমঙ্গলকে ফুত্কারে উড়াইয়া দিয়ো না, তাহা মঙ্গলসমেত উড়িয়া যাইবে।’ সুতরাং উত্তাপকে ‘অমঙ্গল’ বলিয়া বিবেচনা করিলে উহাকে যদি সম্পূর্ণ তাড়াইয়া দেওয়া হয়, তাহা হইলে জীবিত মানুষটি মৃতদেহে পরিণত হইবে। এই ক্ষেত্রে আমরা স্পষ্ট করিয়াই বলিতে চাই, উত্তাপের মধ্য দিয়াই আমাদের চলিতে হইবে। উত্তাপ থাকিবে না, ইহা সম্ভব নহে। তবে ইহা সহনীয় হওয়া দরকার। মনে রাখিতে হইবে, জগতের সকল কিছুর ভিতরেই রহিয়াছে এক আশ্চর্য ভারসাম্য। ইহাই শৃঙ্খলা, ইহাই নিয়ম, ইহাই প্রকৃতির আইন। মহান সৃষ্টিকর্তা মানুষকে সৃষ্টি করিয়াছেন জ্ঞান-বুদ্ধি, বিবেক-বিবেচনা, আত্মমর্যাদা বোধ দিয়া। আর তাহার পর সতর্ক করিয়াছেন বাড়াবাড়ি না করিতে। সৃষ্টিকর্তা মানুষে-মানুষে কাইজ্যা, ফ্যাসাদ পছন্দ করেন না; কিন্তু সৃষ্টির শুরু হইতেই মানুষ সহজাতভাবে নিষিদ্ধ বিষয়ের প্রতিই সবচাইতে অধিক আকর্ষণ বোধ করে। আর এই কারণে উত্তাপও যখন-তখন বৃদ্ধি পাইতে থাকে।

মুশকিল হইল, উত্তাপ এখন বৃদ্ধি পাইতে পাইতে উহার সীমা লঙ্ঘন করিয়া ফেলিয়াছে, জ্বর সৃষ্টি করিয়া ফেলিয়াছে। থার্মোমিটারের পারদ ক্রমশ টপকাইয়া যাইতেছে একের পর এক খাঁজকাটা দাগ। সুতরাং সাবধান হইতে হইবে সময় থাকিতেই। জ্বর যদি অধিক থাকে এবং অধিক সময় ধরিয়া থাকে, তাহা হইলে সেই জ্বর ব্রেনের কোষগুলি নষ্ট করিতে শুরু করে। ইহা অপূরণীয় ক্ষতি। এই জন্য সময় থাকিতে চিকিত্সা দরকার, নচেত্ অসুখ সারাইবার মতো অবস্থা আর নাও থাকিতে পারে। তাহা কি ভালো হইবে?