সুলতানী আমলের নগর

আপডেট : ১৯ মে ২০২১, ২১:৩৯

মধ্যযুগে বাংলাদেশে সুলতানী শাসন এক গৌরবজনক অধ্যায়। অখণ্ড বাংলার প্রথম সুলতান ছিলেন হাজী শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ। তিনিই ‘শাহ ই বাঙ্গালা’ ও ‘শাহ ই বাঙালি’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর সময় বাংলার অধিবাসীরা বাঙালি হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে শুরু করে। সুলতানী আমলে বাংলার রাজধানী ছিলো সোনারগাঁও। পানাম নগর সুলতানী আমলের স্মৃতিবিজড়িত স্থান হিসেবে প্রসিদ্ধ। প্রতি বছর দেশি বিদেশি অসংখ্য পর্যটক সুলতানী যুগের এই নগর দেখার জন্য ছুটে আসেন। এতে সরকারের রাজস্ব আয় হচ্ছে। সুলতানী রাজত্বকালের আরেকটি স্মৃতিবিজাড়িত স্থান হলো মুন্সিগঞ্জ জেলার কসবা নগর। সুলতানী আমলে জেলাকে কসবা বলা হতো। ঐ সময় পানাম নগরের মতো এখানকার বণিকরাও নগর গড়ে তুলেছিলেন। মুঘল আমলে এর গুরুত্ব কমলেও ব্রিটিশদের সময় কসবার গুরুত্ব বেড়ে যায়। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই ইমারতগুলো এখনো তুলনামূলকভাবে পানাম নগরের মতো খুব একটা ভগ্নস্তূপে পরিণত হয়নি। অবাক করা বিষয় হলো আজো এসব স্থাপনায় স্থানীয়রা বসবাস করছে! নিজেদের থাকার জন্য বসবাসকারীরা মূল স্থাপনা যেনতেনভাবে সংস্কার করে ফেলায় এর ঐতিহ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন যত্ন আর অবহেলায় হয়তো নগরীর কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। আর এটি আমাদের কানে আসছে না। অথচ প্রত্নতত্ত্ব আইন অনুযায়ী কোনো স্থাপনার বয়স ১০০ বছর পার হলে তা সংরক্ষণ করার কথা। নগরটিকে বাঁচালে একদিকে যেমন পর্যটন বাড়বে অন্যদিকে ঐতিহ্যও রক্ষা পাবে। তা না হলে আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্ম মধ্যযুগীয় বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য দেখা ও জানা থেকে বঞ্চিত হবে। এজন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে আশু পদক্ষেপ নিতে জোর আবেদন জানাচ্ছি।

মো. জামিন আহমেদ         

শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়