সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে

আপডেট : ১৯ মে ২০২১, ২১:৪০

Å৯ মাসে পুরো অর্থবছরের

     লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০ শতাংশ

     বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার

Åনানা শর্ত থাকলেও

     নিরাপদ বিনিয়োগ মনে

     করছেন বিনিয়োগকারীরা

রেজাউল হক কৌশিক

সঞ্চয়পত্র কিনতে সরকার নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। কারণ, ব্যাংকে আমানত রাখলে যে পরিমাণ সুদ পাওয়া যায় সঞ্চয়পত্রে তার চেয়ে বেশি লাভ পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এদিকে ঝুঁকছিলেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে, সঞ্চয়পত্রে এত বিনিয়োগ আসছিল তা সরকারের জন্য বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে যাচ্ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সঞ্চয়পত্র কিনতে বেশকিছু কড়াকড়ি আরোপ করে সরকার। যার মধ্যে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করা এবং ডিজিটাল নিবন্ধন করা অন্যতম। গত বছরের শুরু থেকে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকে। প্রথমে কয়েক মাস সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমলেও পরে তা বাড়তে থাকে। দেশের মানুষের জন্য সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের চেয়ে ভালো বিকল্প আর না থাকায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। এটাকেই সবচেয়ে নিরাপদ মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।

মহামারি ও নানা শর্তের বেড়াজালের পরেও চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাস জুলাই থেকে মার্চ সময়ে ৮৫ হাজার ৯৯০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। আর একক মাস হিসেবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে গত মার্চ মাসে। এ মাসেই বিক্রি হয়েছে ১০ হাজার ৭৬২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে, জুন থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে ৮৫ হাজার ৯৯০ কোটি ১৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদ ৫২ হাজার ৯৬৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এ হিসাবে নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ২০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে, মার্চে ১০ হাজার ৭৬২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এ মাসে সুদ-আসল বাবদ গ্রাহকদের পরিশোধ করা হয় ৬ হাজার ৮৭১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৮৯১ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা, ব্যাংকে আমানতের সুদহার কম হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে সবচেয়ে বেশি ‘নিরাপদ’ মনে করছেন। তাই বিভিন্ন শর্ত পরিপালন করেও সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা।

চলতি (২০২০-২১) অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। বিশাল ঘাটতি মেটাতে এবার সঞ্চয়পত্র থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। অবশ্য মার্চ পর্যন্ত সময়ের হিসাবে দেখা গেছে এ খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার।

আগের অর্থবছরে বাজেটে যার লক্ষ্য ছিল ২৭ কোটি টাকা। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। যা তার আগের অর্থবছরে ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। সেই হিসাবে গেল অর্থবছরের সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমেছিল ৭১ দশমিক ১০ শতাংশ।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ঋণ ছাড়াও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ করে থাকে সরকার। তবে সামাজিক সুরক্ষার কথা বিবেচনায় নিয়ে সঞ্চয়পত্রে তুলনামূলক বেশি মুনাফা দেয় সরকার। প্রতি মাসের বিক্রি থেকে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর নিট ঋণ হিসাব হয়। এই অর্থ সরকার রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়।

সঞ্চয়পত্র বিক্রির লাগাম টানতে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে এই খাতের বিনিয়োগে একের পর এক কড়াকড়ি আরোপ করতে থাকে সরকার। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের কড়াকড়ির পরেও কেন বিক্রি বাড়ছে এ বিষয়ে ব্যাংকাররা বলেছেন যে, করনীতি কড়াকড়ি আরোপের পরও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ অনেক বাড়ছে।

বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। পাঁঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ২০১৫ সালের ২৩ মের পর থেকে এ হার কার্যকর রয়েছে। এর আগে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ছিল ১৩ শতাংশেরও বেশি।