অসচেতনতায় বারবার নারায়ণগঞ্জে আগুন

আপডেট : ১৯ মে ২০২১, ২১:৪২

১৫ মাসে ৬৫০ দুর্ঘটনা

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

অসাবধনতা আর অসচেতনতার কারণে নারায়ণগঞ্জে ঘটে চলেছে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। জেলায় গত ১৫ মাসে ছোট-বড় ৬৫০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও যথাযথ দায়িত্ব পালন না করার। পাশাপাশি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের পর বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত কমিটির সুপারিশগুলোকে আমলে না নেওয়াও এ সব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ তত্পর হয়ে উঠলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা মিলিয়ে যায়। আর বেশির ভাগ ঘটনাই হয়ে যায় দুর্ঘটনা। ফলে জবাবদিহিতা আর দায়ভার থেকে মুক্তি মেলে প্রকৃত দোষীদের।

ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্যমতে, শুধু ২০২০ সালেই পুরো জেলায় ৫৯৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বৈদ্যুতিক গোলযোগে ২১৭টি, গ্যাস লাইন ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ৯৪টি। এ ছাড়া বিড়ি সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরো থেকে ১৪২টি, চুলা থেকে ৪৭টি, অন্যান্য কারণে ৯৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে প্রায় অর্ধশত মানুষ। তা ছাড়া চলতি বছরে গত সাড়ে তিনি মাসেই নারায়ণগঞ্জে ছোট-বড় মিলিয়ে অর্ধশত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার ফতুল্লা পশ্চিম তল্লা এলাকায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে শিশুসহ দগ্ধ হয়েছিলেন অর্ধশতাধিক মানুষ। প্রাণ হারিয়েছেন ৩৪ জন। এই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অনেক সুপারিশ থাকলেও সেগুলো আমলে নেওয়া হয়নি।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জ জেলা উপপরিচালক মো. আব্দুল্লাহ্ আল আরেফীন জানান, অধিকাংশ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট ও গ্যাসলাইন লিকেজ থেকে। তবে সবচেয়ে যে বিষয়টি দায়ী তা হলো অসচেতনতা। বিশেষ করে বাসাবাড়ি বা হোটেল রেস্টুরেন্টে গ্যাসের চুলার চাবি ভালো করে বন্ধ করার ক্ষেত্রে উদাসীনতা দেখা যায়। এ ছাড়া  ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় বৈদ্যুতিক তারগুলো বেশ পুরোনো থাকে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুত্ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে এ লাইনগুলো তিন মাস অন্তর অন্তর চেক করার কথা থাকলেও তা করা হয় না। তিনি বলেন, গ্যাসলাইন থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গ্যাস লিকেজ হয়ে জমে থাকা গ্যাস থেকে। কারণ গ্যাসের লাইন অনেক পুরোনো থাকে। ফলে মরিচা পড়ে পাইপগুলো এক সময় লিকেজ হয়ে যায়। সিলিন্ডারের ক্ষেত্রেও অনেকটা একই অবস্থা।

এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে একটি ছোট্ট স্ফূলিঙ্গ ও আগুনের উপস্থিতিই যথেষ্ট। সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ছয় বছর পর পর চেক করানো উচিত। কিন্তু তা করা হয় না। ফলে সচেতনতার অভাবেই প্রাণ দিতে হচ্ছে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ডিভিশনাল ডিএমডি মমিনুল হক জানান, ‘গ্যাসলাইনের লিকেজ থাকে এটা সত্য। আমরা চেষ্টা করছি এসব লিকেজ শনাক্ত করে সমস্যা সমাধানের জন্য। অভিযোগ পেলেই আমরা তত্ক্ষণাত্ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্যাস লাইন পরিবর্তন করে দিচ্ছি। আসলে এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। একেবারে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।’