ফেনীর একরাম হত্যা

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৭ পলাতক আসামির গ্রেফতারে উদ্যোগ নেই

আপডেট : ১৯ মে ২০২১, ২১:৫৭

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয় ৩৯ আসামিকে। সর্বোচ্চ সাজা প্রাপ্তদের মধ্যে ১৭ আসামি আজও পলাতক। বিচারের শুরু থেকেই তারা পলাতক রয়েছেন। পলাতকদের ধরতে নেই কোনো উদ্যোগ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত একরামের স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী।  এদিকে নিম্ন আদালতে দণ্ডিত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে পাঠানো ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য এখনো প্রস্তুত হয়নি। পেপারবুক প্রস্তুত হলেই মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ডেথ রেফারেন্স শাখা।

মামলার বাদী ও একরামের বড় ভাই রেজাউল হক জসিম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ফাঁসির রায় ঘোষণার পর তার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন দণ্ডিতরা। পলাতক আসামিরাও গ্রেফতার হয়নি। ফলে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। তবে সরকারের নিকট দ্রুত রায় কার্যকর করার জোর দাবি জানান তিনি।

ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী জানান, একরাম হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের ব্যাপারে

তার পরিবারের কেউ বিষয়টি  আমাকে অবগত করেনি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা জানান,  একরামকে

প্রকাশ্য দিবালোকে নির্মমভাবে হত্যা করলেও দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিরা এখনো গ্রেফতার হয়নি। আবিদসহ কয়েক জন পলাতক আসামি বিদেশে চলে যাওয়ার বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দেলোয়ার হোসেন নামে স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, একরামকে হত্যা করে নেতৃত্বশূন্য করা হয়েছে। কিন্তু রায় ঘোষণা হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি। রায় কার্যকর করা এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি বলে জানান তিনি।

২০১৪ সালের ২০ মে প্রকাশ্যে ফেনী শহরের একাডেমি এলাকায় একরামকে গুলি করে, কুপিয়ে ও গাড়িসহ পুড়িয়ে নৃংশসভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এঘটনায় তার বড় ভাই রেজাউল হক জসিম বাদী হয়ে বিএনপি নেতা মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনারের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে ফেনী থানায় মামলা করে। হত্যার পর ঐ বছরের ২৮ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ৫৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। অভিযোগপত্র দাখিলের ১৬ মাস পর ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ আদালত মামলার চার্জ (বিচারকাজ) গঠন করে। পরবর্তী সময়ে সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১৬ আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হক ৩৯ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড  এবং ১৬ জনকে বেকসুর খালাস দেন। রায়ে বলা হয়, স্থানীয় নির্বাচন থেকে আসামিদের সঙ্গে নিহতের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে পরিকল্পিতভাবে একজন জনপ্রতিনিধিকে ষড়যন্ত্র করে দিবালোকে হত্যা করা হয়েছে। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ২২ জন রয়েছেন কারাগারে।

যারা পলাতক রয়েছেন

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে পলাতক রয়েছেন : ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন জিহাদ, সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারির মামাতো ভাই আবিদুল ইসলাম আবিদ, চৌধুরী মো. নাফিজ উদ্দিন অনিক, আরমান হোসেন কাউসার, জাহেদুল হাসেম সৈকত, জিয়াউর রহমান বাপ্পি, জসিম উদ্দিন নয়ন, এমরান হোসেন রাসেল ওরফে ইঞ্জি. রাসেল, রাহাত মো. এরফান ওরফে আজাদ, একরাম হোসেন ওরফে আকরাম, শফিকুর রহমান ওরফে ময়না, কফিল উদ্দিন মাহমুদ আবির, মোসলে উদ্দিন আসিফ, ইসমাইল হোসেন ছুট্টু, মহিউদ্দিন আনিছ, বাবলু ও টিটু। এদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একেবারে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত জাহিদ হোসেন জিহাদ ও আবিদুল ইসলাম আবিদ পালিয়ে দেশের বাইরে চলে গেছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।