জামিন পাননি তৃণমূলের ৪ নেতা, আজ ফের শুনানি

আপডেট : ১৯ মে ২০২১, ২২:২৬

নারদ স্টিং অপারেশন কান্ডে গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের দুই মন্ত্রীসহ চার নেতাকে আপাতত জেলেই থাকতে হচ্ছে। কারণ গতকাল বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে তাদের জামিনের আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়নি। আজ বৃহস্পতিবার ফের শুনানি হবে। গতকাল কলকাতা হাইকোর্টে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল ও বিচারপতি অরিজিত্ ব্যানার্জির ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা শুনানিতে তীব্র বাদানুবাদ হয়। যুক্তি-পাল্টা যুক্তি চলে।

এদিকে এই মামলায় সিবিআই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক এবং তৃণমূলের আইনজীবী এমপি কল্যাণ ব্যানার্জিকে পক্ষভুক্ত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলায় প্রভাব খাটানো, হুমকি এবং কাজে বাধা দেওয়া অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এদিন গ্রেফতার হওয়া দুই মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি ও ফিরহাদ হাকিম এবং তৃণমূলের সাবেক দুই মন্ত্রী মদন মিত্র ও শোভন চ্যাটার্জিকে আদালতে নেওয়া হয়নি। তারা হাসপাতাল ও জেল থেকে আদালতে ভার্চুয়ালি হাজিরা দেন। এদিন সিবিআই কেন মামলাটি অন্য রাজ্যে নিয়ে যেতে চায় সে ব্যাপারেও শুনানি হয়।

নারদ মামলায় রাজ্যের ৪ নেতা-মন্ত্রীকে সোমবার নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিনে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। অভিযুক্তরা সেই আবেদন পুনর্বিবেচনার আর্জি জানান। অন্যদিকে সিবিআই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিবেচনায় মামলাটি অন্য রাজ্যে স্থানান্তরিত করার আবেদন জানিয়েছিল। এই দুই আবেদনেরই শুনানি শুরু হয় গতকাল। কিন্তু দু’পক্ষেরই বক্তব্য শেষ না হওয়ায় ডিভিশন বেঞ্চ শুনানি স্থগিত রাখে।

সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

গতকাল কলকাতার গড়িয়াহাট থানায় সিবিআই’র বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন পশ্চিমবঙ্গের পৌর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তার অভিযোগ সিবিআই বেআইনিভাবে ওই ৪ নেতাকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে সোমবারের নিজাম প্যালেসের সামনে গোলমাল পাকানো, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ইত্যাদি বিষয়ে কলকাতার শেক্সপিয়র সরণি থানায় কলকাতা পুলিশের তরফে একটি সুয়োমোটো (স্বেচ্ছাপ্রণোদিত) মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে সিবিআই নারদ মামলাটি পশ্চিমবঙ্গের বাইরে অন্য রাজ্যে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার (৪০৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী) আবেদনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক এবং সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জিকে পক্ষভুক্ত করেছে। মামলায় প্রভাব খাটানো, হুমকি, কাজে বাধার অভিযোগ আনা হয়েছে।