ঢিলেঢালা লকডাউন

আপডেট : ২০ মে ২০২১, ২০:৫৯

ঢিলেঢালা লকডাউন চলছে। ঈদে বাড়িও যাওয়া হলো, ফিরেও আসা হচ্ছে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে পাঠকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের

মতামত আজ প্রকাশিত হলো।

লকডাউনের মধ্যে ঈদে মানুষের বাড়ি যাওয়া নিয়ে হচ্ছে অনেক তর্কবিতর্ক। বিপুল সংখ্যক মানুষের ঈদ পালনের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা ও নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে ভ্রমণ করার বিষয়টি অবশ্যই আশঙ্কা ও হতাশা উদ্রেক করে। যেখানে  মানুষকে হাসপাতালে স্থান দেওয়া যাচ্ছে না, সেখানে নিজের ও অপরের জীবনের পরোয়া না করে উত্সব পালন করাটাকে বিলাসিতাই মনে হয়! করোনার সময়ে অসাবধানতা কত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে তা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতকে দেখলেই বোঝা যায়। সরকারের একার পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়, যদি আমরা সাধারণ মানুষেরাও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব না দেখাই।

মীম রাইয়ান খান

ঢাকা

দেশে চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে জনগণের কাছে সবচেয়ে দৃশ্যমান হল দফায় দফায় লকডাউন। সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর লকডাউন বলা হলেও কোনভাবেই জনগণ তা মানছে না। দেশের সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় লকডাউনে থেমে নেই কিছুই। খোলা রয়েছে দেশের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, অফিস আদালত। অবাধে জনগণ চলাফেরা করছে বাইরে। চলছে বিয়ে সহ নানা ধরনের সামাজিক আচার অনুষ্ঠান। উপরন্তু ঈদকে সামনে রেখে শপিংমল গুলোতে ক্রেতার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। মানা হয়নি কোন সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি। এরপর শুরু হয় ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল । তাই যথার্থই বলা যায় এই নামমাত্র লকডাউনে এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা।

সাদিয়া সরকার অনি

সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ

ঢিলেঢালা এই লকডাউনে ঈদের আনন্দ ফিকে হয়ে ধরা দিলেও, হাতের মুঠোয় কিছুটা ধরা তো দিয়েছে অবশ্যই। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন হয়নি কোনো উত্সবের ঘনঘটা। নাড়ির টানে বাড়িমুখো হয়েছেন অনেকেই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাওয়া তবুও বলতেই হয়, ঠিক হয়নি। উদযাপন নিশ্চয়ই জীবনের চেয়ে খুব বেশি কিছু হতে পারে না। প্রকৃতির কার্য-কারণ সমপর্কের নিয়মানুযায়ী করোনা শীঘ্রই কেড়ে নিতে চলেছে অনেকেরই প্রাণ।

ফাতেমা তাসনিম

বরিশাল

গত মাসের মাঝামাঝিতে করোনায় দৈনিক মৃত্যু ১০০ অতিক্রম করার কারণে সরকার কঠোর লকডাউন ঘোষণা করলেও আদতে তা ছিলো নিতান্তই ঢিলেঢালা । লঞ্চ ও ফেরিঘাট গুলোতে ঘরমুখী মানুষের ছিলো উপচে পড়া ভিড়। লকডাউনে শহুরে মানুষের বাড়ি যাওয়া নিরুত্সাহিত করতে ঈদের ছুটি তিন দিন ঘোষণা করলেও ঈদের বেশ কিছু দিন আগে থেকে সড়ক ও জলপথে ছিলো চোখে পড়ার মতো ভিড়। যেহেতু করোনা সংক্রমণের দেড় বছর পরও আমাদের জনগণের মধ্যে 'দয়াল ভরসা'  মানসিকতা যায়নি তাই  কর্তৃপক্ষের  কার্যতভাবে কঠোর লকডাউন নিশ্চিত করতে হবে। আর সরকার বা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আমাদের নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে।

ফাতিমা তুজ জোহরা 

মাগুরা

গত বছরের মার্চ মাসে কোভিড-১৯ নামক বৈশ্বিক মহামারী বাংলাদেশে পদার্পণ করলেও তার অস্তিত্ব এখনও বাংলার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য চলতি বছরের ১৩ই এপ্রিল থেকে কঠোর  লকডাউন ঘোষণা করে। তবে করোনার ভয়কে উপেক্ষা করে প্রিয়জনের সাথে ঈদ কাটানোর জন্য কোনো রকম স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই লোকজন ঘরমুখী হয়েছে এবং ঈদের ছুটি কাটিয়ে আবার তারা জীবিকার তাগিদে কর্মস্থলে ফিরে যাচ্ছে। পরিবার পরিজনের ভালোবাসা ও জীবিকার তাগিদের কাছে করোনা ভাইরাসের তীব্রতা, সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ ও লকডাউন যেন ঠুনকো বিষয়!

ফারহানা ইয়াসমিন

যশোর

করোনা ভাইরাসের উন্মত্ততা নিয়ন্ত্রণে ঘোষিত সর্বোচ্চ কঠোরতার লকডাউন সংক্রমণ পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনলেও ঈদের আগে হঠাত্ করেই দূরপাল্লার গণপরিবহন ছাড়া বাকিগুলো চালুর সিদ্ধান্ত ছিল আত্মঘাতী। ঈদে নারী ও শিশুসহ অসংখ্য মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই বাড়ি গিয়েছে। লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোয় তাদের ফেরার চিত্রটাও একই। তবে শনাক্ত ও মৃত্যুর হার আপাতত নিম্নমুখী হলেও ইতিমধ্যেই ভয়াবহ সংক্রামক ক্ষমতাসম্পন্ন ভাইরাসের ভারতীয় সংস্করণ তার অস্তিত্ব জানান দিয়েছে। নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে অবহেলা এবং অপরিকল্পিত লকডাউন সংক্রমণ পরিস্থিতিকে আবার চরম নাজুক করে তৃতীয় ঢেউয়ের সূচনা করতে পারে।

আবু ফারুক

বনরুপাপাড়া, বান্দরবান

সরকারের বিধিনিষেধ অমান্য করে সংক্রমণের ঝুঁকি ও মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ঈদে বাড়ি যাওয়া মানুষগুলো নিঃসন্দেহে অসচেতনতার পরিচয় দিলেও টানা লকডাউনে কর্মহীন হয়ে যাওয়ায় অনেকেই গ্রামে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চালু করায় মানুষের ভোগান্তি আরো প্রকট হয়েছে। পুনরায় শহরে ফিরে আসা মানুষগুলোর জন্য সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

মোহাম্মদ ফয়সাল

পূর্ব মাদারবাড়ী, চট্টগ্রাম

সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে ঘোষিত লকডাউন ইতিবাচক ফলাফলের বার্তা দিলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে মনে হয় না। এর মূল কারণ ঈদের আগে হুট করে গণপরিবহন চলাচলের নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতার সুযোগে বিপুল সংখ্যক মানুষের গ্রামের দিকে ছুটে যাওয়া। এক্ষেত্রে নির্দেশিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি অনুসরণে কঠোর সতর্কতা তো দূরের কথা ন্যূনতম সচেতনতা অবলম্বনেরও বালাই ছিল না। এভাবে বারবার অপরিকল্পিত লকডাউন দিয়ে সাময়িক সময়ের জন্য সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ বাড়বে।

এ এফ এম সালাহউদ্দীন

বান্দরবান

নাড়ির টানে বাড়ি গেছে অনেক মানুষ। এতে করে যা হলো তা হচ্ছে—করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি। আমরা আশা করব, পুরো হতাশাজনক পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার নিশ্চয়ই টিকা সংগ্রহে সফল হবে।

অ্যাডভোকেট এস কে মো. রমিজ উদ্দিন

মিরপুর, ঢাকা

ঢিলেঢালা লকডাউনের মধ্যে দিয়েও সব চলছে। সব যানবাহনের ওপর প্রশাসনের তদারকি অবশ্যই বাড়াতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদ উল্লাহ

মিরপুর-১, ঢাকা

করোনা মহামারির কারণে লকডাউনে চরম দুর্দশায় পড়েছে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। সরকারি ছুটি কম হলেও এবং লকডাউন থাকলেও মানুষ তা এবার মানেনি। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

আল মায়ামী

ফুলবাড়ীয়া, সাভার

ঢিলেঢালা লকডাউন চলছে এটা একেবারেই সত্যি কথা। সরকারিভাবে ছুটি কমিয়ে দেওয়া হলেও এটাকে অনেকেই তোয়াক্কা না করে ছুটেছেন গ্রামের বাড়িতে। তাহলে লকডাউন দেওয়ার অর্থ কী হলো, বুঝতে পারলাম না।

শিশির

পিলখানা, ঢাকা

দেশব্যাপী লকডাউন ঢিলেঢালা চলছে এ কথা বলা যাবে না। জনগণ মানছে না বলে এটাকে ঢিলেঢালা লকডাউন বলা হচ্ছে। তাই সরকারি এই ঘোষণাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনগণ যেভাবে নাড়ির টানে গ্রামেগঞ্জে বাড়িতে ঈদ করতে গিয়ে আবার যার যার কর্মস্থলে ফিরে আসছেন তা নজিরবিহীন।

আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু)

রাজশাহী-৬২০২

শুধু ঘোষণাতে চলছে লকডাউন। এবার কঠোর হওয়া দরকার স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে। ভাইরাস সুরক্ষায় ব্যক্তিগত সচেতনতার বিকল্প নেই।

মো. শহীদুল ইসলাম (রয়েল)

মধ্যপাড়া, বগুড়া

করোনা থেকে প্রতিকার পেতে দেশে লকডাউন দেওয়া হলেও ঈদে মানুষ বাড়ি গেল, আবার কর্মস্থলে ফিরে এলো। লকডাউন বলবত্ থাকায় মৃত্যু ও সংক্রামণ অনেকটা কমেছে। ইতিমধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট দেশে প্রবেশ করেছে, তাই দেশ ও মানুষকে বাঁচাতে হলে লকডাউন অব্যাহত রাখার কোনো বিকল্প নেই।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী

লকডাউন আসলে ঢিলেঢালা নয়, আমরা মানি না তাই ঢিলেঢালা মনে হয়। বর্তমানকে নিয়ে ভাবতেই আমরা পছন্দ করি তাই আগামীদিনে কী হবে তা ভাবি না। আশা রাখি বিগত দিনের মতো সব সমস্যা মোকাবিলায় আমরা আরো সচেতন হব।

মো. ফিরোজ আহম্মেদ

মিরপুর, ঢাকা

করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সারা দেশে বেশ ঢিলেঢালাভাবে লকডাউন চলছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়ান্ট চিহ্নিত হয়েছে, যা খুবই উদ্বেগজনক। বাংলাদেশে সেটি তৃতীয় ঢেউ হিসেবে আঘাত করতে পারে এবং সেজন্য আমাদের পূর্বপ্রস্তুতি রাখা দরকার বলে মনে করি।

মো. জিল্লুর রহমান

গেন্ডারিয়া, ঢাকা

সরকারের উচিত ছিল কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করা।

ফাহাদ

যশোর

সবকিছুই খোলা রেখে এমন ঢিলেঢালা লকডাউন কিছুতেই কাম্য নয়!

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

পার্বতীপুর, দিনাজপুর

সাধারণ মানুষ লকডাউন সত্ত্বেও ঢিলেঢালাভাবে বাড়িতেই ঈদ উদ্যাপন করেছে। মানুষজন আগের মতো ভয় কিংবা আতঙ্কে নেই। কাজকর্ম, জীবনযাত্রা আবার স্বাভাবিক হোক—সেই প্রত্যাশা করছি।

প্রহরী মনিরুজ্জামান

ত্রিশাল, ময়মনসিংহ

ঈদকে সামনে রেখে সরকারঘোষিত লকডাউন উপেক্ষা করে মানুষ নাড়ির টানে ছুটে গেছে গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদ্যাপন করার জন্য। লকডাউনে দূরপাল্লার গাড়ি বন্ধ থাকায় একরকম কষ্ট করে মানুষ বাড়ি ফিরে। লকডাউন থাকলেও সরকারকে কড়াকড়ি অবস্থান গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। ঘরমুখী মানুষের কষ্ট হয়েছে কিন্তু এই কষ্টের ভেতরে আনন্দও দেখা যায়। দেশে যেহেতু করোনা মহামারি চলছে, তাই সবার সাবধানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা দরকার ছিল। এবার ঈদ যাত্রায় স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি বললেই চলে। সরকারঘোষিত লকডাউন যেমন ঢিলেঢালাভাবে ছিল বা আছে, তেমনি সাধারণ মানুষের ঈদে বাড়ি যাওয়া ও আসার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রেও ছিল ঢিলেঢালা ভাব। ফলে আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরুর আশঙ্কা রয়েছে।

কামরুজ্জামান

শ্রীপুর, গাজীপুর