নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে স্বাস্থবিধি মেনে পুনরায় যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার দাবিতে নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন সর্বস্তরের নৌযান শ্রমিক কর্মচারী। বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে গতকাল নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের লঞ্চ টার্মিনালের জেটিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহ আলমের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সাধারণ সমপাদক মাস্টার সবুজ শিকদার, বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহসানুল করিম চৌধুরী বাবুল, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফাসহ অন্য নেতৃবৃন্দ। বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে নদীবন্দর এলাকায় তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার সামনে দ্বিতীয় দফায় বিক্ষোভ সমাবেশ করে কর্মসূচি সমাপ্ত করা হয়।
নৌযান শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে গত পাঁচ এপ্রিল থেকে সারা দেশে লকডাউন শুরু হলে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এরপর থেকে সহস্রাধিক নৌযান শ্রমিক কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রণোদনা ও খাদ্যসহায়তা দেওয়া হলেও নৌযান শ্রমিকদের অধিকাংশের ভাগ্যে তা জোটেনি।
তাদের অভিযোগ, ঈদের আগে সরকার সড়ক ও আকাশপথে অভ্যন্তরীণ যানবাহন ও বিমান চলাচলের অনুমতি দিলেও নৌপথে বৈষম্য সৃষ্টি করে রেখেছে। ঈদের আগে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিলেও এ ব্যাপারে কোনো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। আগামী ২৩ মের মধ্যে শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেওয়া না হলে দেশের সব নৌরুটে সব ধরনের পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার সবুজ শিকদার বলেন, লকডাউনের অজুহাতে শ্রমিকদের দাবি মানা না হলে ২৩ মের পর দেশের সব নদীর মাঝখানে লঞ্চ নোঙর করে নৌপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। কোনো পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এতে করে দেশের পরিস্থিতি খারাপ হলে দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।
