শেয়ারবাজার

এক দিনের ব্যবধানে বড় দরপতন

আপডেট : ২০ মে ২০২১, ২১:১৭

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের শেয়ারবাজারে মূল্য সূচকের বড় পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। পাশাপাশি কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। তবে এ দরপতনকে স্বাভাবিক বলছেন শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বেশ কিছুদিন ধরে শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেওয়ার জন্য বিক্রির চাপ বাড়িয়েছেন। ফলে বাজারে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন হয়েছে।

তারা বলছেন, এই দরপতন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। টানা উত্থানের পর কিছুটা মূল্য সংশোধন হবে এটাই স্বাভাবিক। সার্বিকভাবে বর্তমানে শেয়ারবাজার বেশ ভালো অবস্থানে আছে। বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করে মুনাফাও তুলে নিচ্ছেন। তবে বিনিয়োগকারীদের তথ্যনির্ভর বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। হুজুগে বা গুজবে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।

বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। এতে লেনদেন শুরু হতেই ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ৩২ পয়েন্ট বেড়ে যায়। গতকাল দিনের লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮১৩ পয়েন্টে নেমে গেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৭২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৭৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সবকটি মূল্য সূচকের পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠান। বাজারটিতে দিনভর লেনদেনে অংশ নেওয়া ৬৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছ। বিপরীতে দাম কমেছে ২৩৪টির এবং ৫৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) একজন পরিচালক বলেন, কয়েক দিন ধরে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বেড়েছে। এখন সেটার মূল্য সংশোধন হয়েছে। এটা স্বাভাবিক ঘটনা। সূচক কমে গেলেই চিন্তার কিছু নেই। দেখতে হবে লেনদেনের গতি কেমন। অন্যদিকে ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার দাম কিন্তু তেমন কমেনি।

এদিকে সূচকের পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। দিনভর লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬৫২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ২ হাজার ৯৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ৪৪৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ২১৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ৪৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৩৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে প্রাইম ব্যাংক।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—এনআরবিসি ব্যাংক, সাইফ পাওয়ার, ন্যাশনাল ফিড, জিনেক্স ইনফোসিস, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, কনফিডেন্স সিমেন্ট এবং জিবিবি পাওয়ার। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই কমেছে ২১৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯৯ কোটি ১০ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৮২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৯৯টির এবং ৪১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।