কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মাথার চুল দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে ক্যাপ তৈরি করে সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন এক গৃহবধূ। আরো সফলতা অর্জনের স্বপ্ন দেখছেন নিভৃত পল্লির ঐ নারী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, লাইজু খাতুন নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্য নারীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যেও কাজ করে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে ৩০ জন নারীর একটি দল নিয়ে এই ক্যাপ তৈরি করছেন লাইজু। এরা প্রত্যেকে প্রতি মাসে ৪ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় করে পরিবারে সচ্ছলতা এনেছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ব্যবসার ব্যাপক প্রসার ঘটিয়ে তৈরি পণ্য বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন সম্ভব বলে জানান লাইজু।
লাইজু কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার চন্দ খানা বালাতাড়ি গ্রামের কৃষক হেছার আলীর মেয়ে। তার পাঁচ মেয়ে।
লাইজুর প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন মোসলেমা বেগম (৩০)। তিনি বলেন, এখন তার পরিবারের সচ্ছলতা এসেছে। অন্যদিকে, কাকলী খাতুন নবম শ্রেণি ও আনিছা আক্তার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় আট থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী লাইজুর প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করছে। লাইজুর স্বামী সামিউল ইসলাম জানান, তার স্ত্রী খুবই মেধাবী একজন নারী। তিনি অত্যন্ত ভালো ফল নিয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পরেও চাকরির দিকে না ঝুঁকে উদ্যোক্তা হবার চেষ্টা করেন এবং সফল হয়েছেন। উদ্যোক্তা লাইজু খাতুন বলেন, অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল একজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে গ্রামের নারীদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করবো। এই স্বপ্নটা পূরণ করতে আমার স্বামীর সহযোগিতায় ময়মনসিংহে পাঁচ দিন ও ঢাকার উত্তরায় ১০ দিনসহ মোট ১৫ দিন চুল দিয়ে ক্যাপ তৈরির প্রশিক্ষণ নেই। প্রশিক্ষণ নিয়ে গ্রামের ৩০ জন নারীকে আমার নিজস্ব অর্থায়নে ২০ থেকে ২৫ দিন ক্যাপ তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়ে বাবার বাড়িতে একটি টিনসেড ঘরে ‘সিনহা বিনতে সামিউল হেয়ার ক্যাপ নিটিং লিঃ’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করি। ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মাধ্যমে এই চুলের তৈরি ক্যাপগুলো ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছি। তারা আমাদের তৈরিকৃত চুলের ক্যাপ চীনে রপ্তানি করছে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. সোহেলী পারভীন বলেন, এটা খুবেই ভালো উদ্যোগ। নারীরা সমাজে সু-প্রতিষ্ঠিত হোক সবাই চায়। দুই-এক দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে লাইজুর প্রতিষ্ঠানটি সমিতির অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা হলে উপজেলার শতাধিক নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আমার বিশ্বাস। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমান দাস জানান, ফুলবাড়ী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। এটা খুবই ইতিবাচক।
