বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যালের সিসিইউতে নানা সংকট

আপডেট : ২০ মে ২০২১, ২২:০৬

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষু হূদেরাগীদের চিকিত্সার ভরসাস্থল করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চরম দুরাবস্থা বিরাজ করছে। সক্ষমতার চার গুণ রোগী ভর্তি রয়েছে ওয়ার্ডে। কেন্দ্রীয় শীতাতপ মেশিন নিয়ন্ত্রিত সিসিইউ বিভাগের আটটি মেশিনের সবগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিকল। বৈদ্যুতিক পাখাগুলোও কার্যক্ষমতা হারিয়েছে অনেকাংশে। শীতাতপ মেশিন বিকল হওয়ায় এবং পাখাগুলো কার্যক্ষমতা হারানোয় প্রচণ্ড গরমে রোগী ও স্বজনদের ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। নোংরা টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী। রয়েছে ডাক্তার এবং চতুর্থ শ্রেণির জনবলের সংকটও। একমাত্র এনজিওগ্রাম মেশিনটিও ছয় মাস ধরে বিকল। এ কারণে হূদ্যন্ত্রে রিং পরানো ও পেসমেকার বসানোসহ সব সেবা বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক জানান, কার্ডিওলজি বিভাগের সিসিইউতে নানা সংকট রয়েছে। বরাদ্দ না থাকায় সিসিইউ বিভাগের শীতাতপ মেশিন সচল করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, শের-ই-বাংলা মেডিক্যালের মূল ভবনের পূর্ব পাশে ‘আই’ এবং ‘এফ’ ব্লক ঘেঁষে মুমূর্ষু রোগীর উন্নত চিকিত্সার জন্য করোনারি কেয়ার ইউনিট বা সিসিইউ ভবন নির্মাণ করা হয় ২০০২ সালে। মোট ১২টি শয্যা রয়েছে সিসিইউ বিভাগে। গতকাল পর্যন্ত ঐ ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল ৪৮ জন রোগী। একজন রেজিস্ট্রার এবং তিন জন মেডিক্যাল অফিসার দিয়ে পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে সিসিইউর রোগীদের। পর্যাপ্ত নার্স থাকলেও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছে মাত্র একজন।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, শয্যা ছেড়ে ওয়ার্ডের মেঝেতে স্থান হয়েছে রোগীদের। রোগী ও স্বজনদের বাড়তি চাপে ভ্যাপসা গরমে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। একাধিক রোগীর স্বজনরা জানান, সিসিইউ বিভাগের কর্মরতদের কাছে কোনো বিষয়ে সেবা পেতে গেলে তারা খারাপ আচরণ করে থাকেন।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম জানান, এসব বিষয়ে সমাধান চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত বিভাগের মেডিক্যাল উপবিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম জানান, সিসিইউ বিভাগের শীতাতপ মেশিনগুলো বহু পুরোনো হওয়ায় সেগুলো কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। এর আগে একবার মেরামত করা হলেও বেশি দিন ব্যবহার করা যায়নি। সমস্যা সমাধানের জন্য অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে শীতাতপ মেশিন সচল করাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধান করা হবে বলে তিনি জানান।