ঝিনাইদহে নিহত এসআই আকরাম হোসেনকে দাফনের ৩০ দিন পর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ কবর থেকে উঠিয়ে ময়নাতদন্ত করা হয়। তবে তার বোনের অভিযোগ, লাশ কবর থেকে উঠিয়ে ময়নাতদন্তের অনুমতি পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। তখনকার পুলিশ সুপার তাদের কথা শুনতে চাননি বলে আকরাম হোসেনের বোন জান্নাত আরা রিনি অভিযোগ করেন।
২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারি শহরের পৌর গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। অনুমতি পাওয়ার পর ১২ ফেব্রুয়ারি ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ কবর থেকে উওঠানো হয়। শৈলকুপা থানার এসআই মো. সাজ্জাদ হোসেন লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন। সুরতহাল রিপোর্ট লেখা হয়—মাথার ডান দিকে কাটা চিহ্ন এবং বাম দিকে খুলিতেও কাটা চিহ্ন ছিল। লাশ পচে গিয়েছিল। তবে পরিবারের সদস্যরা জানান, লাশের শরীরে অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে মাথায় আঘাতের চিহ্নের উল্লেখ আছে বলে পিবিআইয়ের তদন্তসংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানায়।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার পিবিআই এসআই আকরাম হোসেনের স্ত্রী বনানী বিনতে বশির বহ্নির বাবা বশির আহমেদকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞসাবাদে তার কাছ থেকে আকরাম হোসেনের মৃত্যুর আগে ও পরের ঘটনা জানা এবং মেয়ের দাম্পত্যজীবন সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করা হয়। বুধবার বহ্নির বড় মামা মুজিবুল হককেও পিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করে। পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা বুধবার রাতে বহ্নির সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। বহ্নি এক ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে করে স্বামীর সঙ্গে বর্তমানে ঢাকায় আছেন। বহ্নির সঙ্গে আলাপ করে উক্ত পিবিআই কর্মকর্তা অনেক তথ্য পেয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে তিনি তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এসআই আকরাম হোসেন নিহতের ঘটনা ছয় বছর চাপা পড়ে ছিল। সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মিতু হত্যা মামলা নতুন করে দায়ের এবং তাকে গ্রেফতারের পর তদন্তে নামে পিবিআই। এরপরই আকরাম হোসেন নিহতের ঘটনা প্রকাশ পেতে শুরু করে। নিহতের পর ২০১৫ সালে এসআই আকরামের পরিবারের পক্ষ থেকে নানাভাবে অভিযোগ করা হয় যে তাকে হত্যা করে দুর্ঘটনা বলে চালানো হচ্ছে। এ সময় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের কথা তুলে ধরা হয়। তখন তারা বাবুল আকতারের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলেন। এরপর বিষয়টি চাপা পড়ে যায়।
