সাধারণত চৈত্র মাসের শেষ দিক থেকেই এদেশে কালবৈশাখীর আবির্ভাব ঘটে এবং পুরো বৈশাখ মাস পর্যন্ত এর আঘাত হানার আশঙ্কা থাকে। তবে কখনো কখনো এর পরও কালবৈশাখী হয়ে থাকে। তীব্র বাতাস, সামান্য বৃষ্টি, কখনো কখনো প্রচণ্ড বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টি মিলেই কালবৈশাখীর সৃষ্টি হয়। কালবৈশাখী ঝড় মাঝে মাঝে বিধ্বংসী রূপও ধারণ করে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ধ্বংসলীলায় কালবৈশাখী ঝড় কখনো টাইফুন বা টর্নেডোকেও হার মানায়। বাংলাদেশে ১৯৫১ সালে যশোর ও ফরিদপুর জেলায় কালবৈশাখী আঘাত হেনেছিল, যার ধ্বংসলীলা আমেরিকার টর্নেডোকেও ছাড়িয়ে যায়।
কালবৈশাখীর প্রচণ্ড দাপট। এর স্থায়িত্বকাল কিছুক্ষণের হলেও ভয়াবহ রূপ জীবজগেক স্তব্ধ করে দেয়। প্রধানত গ্রীষ্মের প্রচণ্ড খরতাপে, বিকেলে হঠাত্ করে কালবৈশাখীর আবির্ভাব ঘটে। কালবৈশাখী ঝড় শুরু হওয়ার আগে বেশ অস্বাভাবিক রকমের একটা গরম অনুভূত হয় এবং ঝড় থেমে গেলেই বেশ ঠান্ডা। এ ঝড় যেমন খুব ছোট বা সামান্য জায়গা জুড়ে আসতে পারে, তেমনি বিরাট অংশ জুড়েও আসতে পারে। আমাদের দেশে যেসব কালবৈশাখী ঝড় বিরাট অংশ জুড়ে ধ্বংসলীলা ঘটায়, তা সবসময়ই ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় এবং এ ঝড় বঙ্গোপসাগর থেকে হঠাত্ এসে উপস্থিত হয়।
বাংলাদেশের প্রকৃতির সঙ্গে কালবৈশাখীর একটা অবিচ্ছেদ্য বন্ধন রয়েছে। সাধারণত ফাল্গুন-চৈত্র ও বৈশাখের প্রচণ্ড খরতাপে মাঠ-ঘাট, পুকুর-খাল-বিল শুকিয়ে যায়। যখন কালবৈশাখী আসে এবং বৃষ্টিপাত হয়, তখন শস্যখেত থেকে শুরু করে মাঠ-ঘাট, গাছপালা সবকিছুতেই আসে একটা সজীবতা। প্রকৃতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। বাংলাদেশের মানুষের কাছে কালবৈশাখী অতি চেনা। চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে পুরো বৈশাখ মাস পর্যন্ত এদেশের মানুষ বিশেষ করে কৃষক সম্প্রদায় বিকেলের দিকে যথেষ্ট সাবধান থাকেন। এ সময় আকাশের উত্তর-পশ্চিম কোণে সামান্য মেঘ দেখা দিলেই তাঁরা বুঝতে পারেন কালবৈশাখীর আগমন ঘটছে। বাংলাদেশে প্রতি বছরই কম-বেশি কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। এ ঝড়ের ফলে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আবহাওয়া দফতরের কল্যাণে জনগণ পূর্বপ্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন করতে পারছে।
প্রদীপ সাহা
