ইহা কীসের আলামত?

আপডেট : ২১ মে ২০২১, ২১:২০

কত ধরনের খুনের ঘটনা এখন  চারিদিকে ঘটিতেছে, তাহার ইয়ত্তা নাই। গত কয়েক মাসে পত্রপত্রিকার পাতায় উঠিয়া আসিয়াছে বিচিত্র সকল খুনের ঘটনা। সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে সন্তানের সামনে বাবা শাহিন উদ্দিনকে নৃশংসভাবে কুপাইয়া ও পিটাইয়া হত্যা করা হয়। ইহার নেপথ্যে আধিপত্য বিস্তার ও জমি লইয়া বিরোধের কথা শুনা গিয়াছে। এই মহামারির মধ্যেও থামিয়া নাই একটি বড় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। গত দুই মাসে খুন হইয়াছে প্রায় এক ডজন কর্মী, গুলিবিদ্ধ ৩০। মহামারি শুরুর পর গত ১১ মাসে নিহত হইয়াছে ২৩, আহত সহস্রাধিক। দেখা যাইতেছে, খুন, হত্যা, নৃশংসতার ঘটনা কোনো কোনো সময় অনেক বেশি বাড়িয়া যায়। অনেকেই মনে করেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে ধরনের অন্যায়-অবিচার প্রশ্রয় পাইতেছে সেই সকলও ঘটিতেছে আধিপত্য বা প্রভাব বিস্তারের কারণে।

একটি সুন্দর, বসবাস উপযুক্ত এবং কল্যাণকর দেশ গঠনের লক্ষ্যে আমরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়াছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো দেশে বাঁশের চাইতে কঞ্চির আস্ফাালনই অধিক দেখা যায়। এই কঞ্চির যন্ত্রণায় ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কাহারো কোনো স্বস্তি নাই। ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময় আমরা এমন কিছু ভিডিও দেখিয়াছি, যেইখানে উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনকেও হুমকি-ধমকিসমেত অশ্রাব্য গালিগালাজ করা হইয়াছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রীতিমতো বিব্রতকর অবস্থা বিরাজ করিতেছে কর্মকর্তাদের মধ্যে। এমনকি অমুকের কথা না শুনিলে বদলি, তমুকের কথা না শুনিলে চাকুরি হারাইবার মতো হুমকি-ধমকির কথাও শুনা যায়। ইহারা বিভিন্ন খুনখারাবি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, টেন্ডারবাজি কিংবা মাদক ব্যবসায়ের সহিত যুক্ত। আমরা বলিব না যে, ইহারা সকলেই ক্ষমতাসীনদের লোক। তবে যাহারা এই ধরনের ঘটনা ঘটান তাহাদের ৮০ শতাংশই ক্ষমতাসীনদের কোটের পকেটে ঢুকিয়া পড়িয়াছেন। গিরগিটির মতো রং বদলাইয়া প্রয়োজনে ‘সোনার তরি’ উপহার দিয়াও ইহারা ক্ষমতার ছায়ায় ঢুকিয়া পড়িবার কৌশল রপ্ত করিয়া লইয়াছেন। এইভাবে রাজাকার, আলবদর, আলশামস হইতে শুরু করিয়া অন্য দলের অপরাধীদের স্রোত মিশিয়া গিয়াছে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে। অতঃপর ক্ষমতার ছায়ায় আশ্রয় লইয়া লম্বা জিহ্বা বাহির করিয়া ইহারা শিকার ধরিতেছেন সুযোগমতো। বহু ক্ষেত্রেই বিপুল অর্থের বিনিময়ে প্রশাসন হইতে শুরু করিয়া রাজনীতিক এবং আইনশৃঙ্খলার লোকদেরও ইহারা নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজে লাগাইতেছেন।

মনে রাখিতে হইবে, জগতে কোনো কিছুই একা একা নিপুণভাবে পরিচালনা করা যায় না। ইহার জন্য প্রয়োজন বিশ্বস্ত করিত্কর্মা ব্যক্তিবর্গ। কিন্তু করিত্কর্মা ব্যক্তিবর্গের জায়গায় যদি কিছু আগাছা চলিয়া আসে, তবে তাহা তলে তলে ভয়ংকর ক্ষতিসাধন করিতে থাকে। আগাছার ক্ষতিকর দিকটি একটু খেয়াল করিলে দেখা যাইবে, উহারা যাহার রস-পুষ্টির উপর ভাগ বসাইয়া ঝাড়েবংশে বাড়িয়া উঠে, শেষাবধি তাহারা সেই মূল গাছটিকেই চারিদিক দিয়া ঘিরিয়া ফেলে। নিঃশ্বাস রুদ্ধ করিয়া ফেলে। সুতরাং ভাবিয়া দেখিতে হইবে কেন বৃদ্ধি পাইতেছে এই ধরনের অপরাধ? যাহা ঘটিতেছে তাহা আসলে কীসের আলামত?