মো. কামরুল ইসলাম সোহাগ, দশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
বছর দুই পার হতে না হতেই এলজিইডির আওতাধীন সড়ক বেহাল। দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের ৩৪ নম্বর ঢনঢনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কের পাইলিংসহ অধিকাংশ জায়গা নদীগর্ভে চলে গেছে। এছাড়া তেঁতুলিয়া নদীর তীরঘেঁষা হাজির হাট এলাকায় প্রায় ৩০০ মিটার সড়ক নদীতে বিলীন হয়েছে।
উপজেলা এলজিইডি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দশমিনা ইউনিয়নের হাজির হাট পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার পাকা সড়কটি ২০১৮ সালের মার্চ মাসে কোস্টাল ক্লাইমেট রেজিরিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার (সিসিআরআইপি) জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে, বিশ্ব জলবায়ু তহবিলের প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সড়কের কাজের শুরুতেই কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ৩৪ নম্বর ঢনঢনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালরে সামনে নিম্নমানের পাইলিং করায় কিছু দিনের মধ্যে পাইলিংসহ বিভিন্ন অংশ নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় সড়কে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং দশমিনা ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীর তীর ঘেঁষা হাজির হাট এলাকায় প্রায় ৩০০ মিটার সড়ক নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।
উপজেলা জলবায়ু ফোরামের সভাপতি পিএম রায়হান বাদল জানান, ‘নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী এবং অপরিকল্পিতভাবে তড়িঘড়ি করে সড়কের নির্মাণকাজ হয়েছে। এ কারণে নির্মাণের দুই বছর যেতে না যেতেই সড়কটির বিভিন্ন অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আমি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমার অভিযোগ আমলে নেয়নি। বর্তমানে ঐ সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ।’
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. মকবুল হোসেন ইত্তেফাককে জানান, ‘আমার আগের উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার সড়কটির কাজ করেছে। ন্যাচারালি ভেঙে গেলে আমার কি করণীয়? ঢনঢনিয়া স্কুলের সামনের রাস্তা ও পাইলিং ভেঙে গেছে এবং দশমিনা হাজির হাটে তেঁতুলিয়া নদীর তীরঘেঁষা সড়কটির প্রায় ৩০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, এগুলো আমি দেখেছি।’ দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিন বলেন, ‘সড়কের ভাঙা অংশগুলো দেখেছি। এরপরেই দ্রুত উপজেলা প্রকৌশলীকে সড়ক সংস্কারের জন্য বলেছি।’
