সৈয়দপুরে হারিয়ে যাচ্ছে লাঙল-জোয়ালে চাষাবাদ

আপডেট : ২১ মে ২০২১, ২১:৩৫

মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

আধুনিকতার ছোঁয়ায় সৈয়দপুরে বদলে যাচ্ছে কৃষি ও কৃষক। ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে গরু দিয়ে চাষাবাদ। এখন আর দেখা যায় না কৃষকের কাঁধে লাঙল-জোয়াল, হাতে গরুর দড়ি ও মাথায় টোপর (ঝাঁপি)। ১৫ বছর আগেও এখানকার স্বাভাবিক চিত্র ছিল এটি। ভোর হলেই গ্রামের কৃষকরা ভরাপেট পান্তাভাত খেয়ে বেরিয়ে পড়তেন লাঙল-জোয়াল ও হালের গরু নিয়ে জমি চাষের জন্য। কিন্তু আধুনিক যন্ত্রপাতির ছোঁয়ায় গরুর হাল এখন বিলুপ্তির পথে। এখন মাঠে শোভা পাচ্ছে কলের হাল (পাওয়ারটিলার), ধান কাটার রিপার মেশিন। জমিতে বীজ বপন ও চারা রোপণের জন্য হালচাষ করা হতো। আর ঐ চাষের মাটি সমান করার জন্য বাঁশের মই ব্যবহার করা হতো। এখন একটা গ্রাম ঘুরে দু-একটা গরুর হাল চোখে পড়ে। আর জৈব সারে ফলাত বিষমুক্ত সবজি।  স্থানীয় কৃষকরা জানান, এক সময় সব বাড়িতে হালচাষ ও দুধের জন্য গরু লালনপালন করা হতো। উপজেলার বাঙালিপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. এনছার আলী (৭৮) জানান, অনেকের বেশির ভাগ সময় কেটেছে লাঙল-জোয়ালের সঙ্গে। অতীতে গরু ও মহিষের হাল ছাড়া কোনো হালই ছিল না। চাষাবাদ ও দুধের জন্য অনেক গরু, মহিষ লালনপালন করতেন কৃষক। এতে জমির জন্য অনেক (গোবর) জৈব সার পাওয়া যেত। উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কৃষক আইয়ব আলী (৬৭) জানান, বর্তমানে কৃষিতে আধুনিকায়নের ফলে গরুর হালের প্রয়োজন হয় না, তেমনি কৃষকদের আর অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে না। বর্তমানে তুলনামূলক কম সময় ও কম খরচে চাষাবাদ করা যায়। তবে তিনি বলেন, ‘এক সময় কাঠের লাঙল-জোয়াল দেখার জন্য জাদুঘরে যেতে হবে। বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা দাদা-দাদির কাছে গরুর হালের বিষয় রূপকথার কাহিনির মতো শুনবে। এই সময় এসে গেছে, বেশি দিন আর নেই।’