দেশে বেআইনি পাখি শিকারের হটস্পট ৩ অঞ্চলের জলাভূমি

আপডেট : ২২ মে ২০২১, ১২:২৯

দেশে গত ১০ বছরে বেআইনি পাখি শিকারের হটস্পট হয়ে উঠেছে রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা অঞ্চল। জানা গেছে, এই তিন অঞ্চলের জলাভূমিতেই শিকারীর খাঁচায় পাখি বন্দি হয় বেশি। দেশের মোট বেআইনি পাখি শিকারের ৭০ শতাংশই ঘটে এসব এলাকায়। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘স্ট্যাটাস অফ ইল্লিগ্যাল বার্ড হান্টিং অফ বাংলাদেশ’ শিরোনামের গবেষণাটি করেছেন বাস্তুবিদ আশিস কুমার দত্ত। ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে জুন ২০২০ পর্যন্ত সারাদেশে সামনে আসা পাখি শিকারের ঘটনার ওপর ভিত্তি করে গবেষণাটি করা হয়েছে।

পাখি শিকারের হটস্পটের পাশাপাশি শিকারের ধরন, বন্দি পাখির প্রকৃতি এবং কেনো শিকার চলছে- তাও উঠে এসেছে এ গবেষণায়। গবেষণার জন্য প্রত্যেক বছরকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি ভাগে পড়েছে তিনটি করে মাস। দেখা গেছে প্রথম ভাগ জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ এবং শেষ ভাগ অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর- এই দুইটি ভাগে পাখি শিকারের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। মোট শিকারের ৩৬ শতাংশই ঘটে প্রথম ভাগে। দ্বিতীয় ভাগে এর পরিমাণ ৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ মোট শিকারের ৮৪ শতাংশই ঘটে এই দুই ভাগের ছয় মাসে।

রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটে বেশি শিকার হওয়ার কারণ হিসেবে উঠে এসেছে জলাভূমির কথা। প্রথম অঞ্চলে রয়েছে ২৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের চলনবিল। শিকারের ঘটনা এখানেই বেশি। সিলেট অঞ্চলে আছে নানারকম হাওড়, খুলনাতেও আছে বিস্তৃত জলাভূমি। গবেষণা বলছে, জলাভূমিতেই শিকার করা হয় ৭০ শতাংশ পাখি। অন্যদিকে বসতবাড়ি ও ফসলের ক্ষেতে শিকারের পরিমাণ যথাক্রমে ১৩ এবং আট শতাংশ।

শিকারীর মনোযোগ কোন ধরনের পাখিতে বেশি থাকে তাও জানা গেছে। গবেষণাপত্রে প্রকাশ- বক, সারস, দাঁড়কাক, কূট, কয়েকপ্রকার হাঁস, ঘুঘু, কবুতর, ময়নাই বেশি ধরা হয়। তবে সীমিত আকারে প্যাঁচার ছানা, বুলবুলি, কালো চিল, কাঠঠোকরা ও মুনিয়া পাখি ধরার নজিরও পাওয়া গেছে। ঘুরেফিরে শিকারীর নজর এসব পাখিতেই থাকে।
প্রধানত পাঁচটি পদ্ধতিতে ধরা হচ্ছে পাখি। এক) ফাঁদ পেতে। এভাবে ধরা হয় অন্তত ৪০ শতাংশ। স্থানীয়ভাবে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে বানানো হয় এসব ফাঁদ। দুই) জাল বিছিয়ে। এর পরিমাণ ২৭ শতাংশ। সাধারণত রাতেরবেলা জাল পেতে শিকারী ফিরে যায়। সকালে এসে দেখে কী কী ধরা পড়লো। তিন) বিষাক্ত টোপ ফেলে। এই পদ্ধতির ব্যবহার দেখা গেছে ২২ শতাংশ ঘটনায়। এখানে ব্যবহৃত হয় চাল-গমসহ নানারকম শস্য। এসবে মাখানো থাকে বিষ। এর বাইরে বন্দুক এবং অন্যান্য পাঁচমিশালী পদ্ধতিতেও ধরা হচ্ছে পাখি।

শীতের সময় বেশি তৎপর হয়ে ওঠে শিকারীরা। ধরা পড়া ৭৭ শতাংশ শিকারী জানিয়েছে, তারা প্রধানত শিকার করা পাখি বিক্রি করেই আয় করে। খেলা বা পোষার জন্য পাখি ধরার পরিমাণ মাত্র সাত শতাংশ।  এর বাইরে ফসল বাঁচাতে মারা হয় চার শতাংশ পাখি। বাকি দশ শতাংশ কেন শিকার করা হয় তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।

গবেষক আশিস ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, সম্পূর্ণ নিজের আগ্রহ থেকে নিজ খরচে গবেষণাটি করেছি। এ ধরনের রিসার্চ বাংলাদেশে হয়নি। বেআইনি পাখি শিকারের সবগুলো দিক সামনে আনতে না পারলেও এ গবেষণা থেকে কিছু কিছু পয়েন্টের পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। পাখি শিকার নিয়ে সামনে আরো অনেক গবেষণা হবে বলে প্রত্যাশা করছি।


ইত্তেফাক/এসএ