প্রায় দেড় যুগ ধরে অযত্নে পড়ে আছে দশমিনার গণগ্রন্থাগার

আপডেট : ২২ মে ২০২১, ২১:০৭

মো. কামরুল ইসলাম সোহাগ, দশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

দশমিনা উপজেলার একমাত্র গণউন্নয়ন গ্রন্থাগারটি প্রায় দেড় যুগ ধরে অযত্নে অবহেলায় ভেঙে পড়ে আছে। যথাযথ তদারকির অভাবে এক সময়ের প্রাণচঞ্চল এই পাঠাগারটি এখন নিষ্প্রাণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহূত অবস্থায় থাকায় গ্রন্থাগারটির বই ও আসবাবপত্র অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। করা হয়নি কোনো সংস্কার। বৃষ্টির পানিতে আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাঠাগারের ভেতরে ময়লা আর্বজনার স্তূপ পড়ে আছে। চেয়ার টেবিলগুলো ভেঙে গেছে। এগুলো এক জায়গায় জড়ো করে রাখা হয়েছে। বই ও আসবাবপত্রে ইঁদুর, উইপোকা, তেলাপোকা বাসা বেঁধেছে। স্থানীয়রা পাঠাগারটির সামনে কালো ব্যানার টাঙিয়ে লিখেছেন ‘আমি আপনাদেরই, আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি। আছে কি কেউ, আমাকে বাঁচাবে?’

ঐ পাঠাগারের সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জানান, ৯০ দশকে এলাকার শিক্ষানুরাগী সৈয়দ মাসুম ও ইসমাইল হোসেন গাজী দুই জন মিলে এলাকার মানুষের জ্ঞান চর্চার জন্য এই পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং একটি ঘর ভাড়া নিয়ে পাঠাগারটির কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরে ১৯৯৪ সালে দশমিনা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উত্তরপাশে জমি কিনে করা সেমিপাকা এই পাঠাগারটি এলাকার সর্বস্তরের মানুষ বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের জন্য জ্ঞান চর্চার অন্যতম কেন্দ্রে হিসেবে পরিণত হয়। কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিডিএল-এর একটি প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হয়। ঐ সময় এটি পরিচালনার জন্য একটি সংবিধানও তৈরি করা হয়। সংবিধান অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হবেন পাঠাগারের সভাপতি। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো কার্যকারিতা নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, পাঠাগারটির গল্প, উপন্যাস, পাঠ্যবইসহ বিভিন্ন ধরনের ২ হাজারের ও বেশি বই ছিল। এখানে জাতীয় ও আঞ্চলিকসহ বেশ কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা রাখা হতো। সকাল-বিকাল এখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পড়াশুনা করতে আসতেন। পরিচালনা কমিটির অবহেলার কারণে পাঠাগারটির আসবাপত্র ও ঘরটি নষ্ট হয়ে যায়। ২০০৪ সালের দিকে পাঠাগারটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

দশমিনা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র রেজাউল করিম জানান, পাঠাগারের অভাবে এলাকার ছাত্রছাত্রী এবং অন্যান্য পেশার মানুষ বই ও পত্রিকা পড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে জ্ঞান অর্জন ও সাহিত্য চর্চা ব্যাহত হচ্ছে।

পাঠাগারটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুম জানান, ২০০৪ সালের দিকে ঘরটি বেহাল হওয়ায় কমিটির অন্য সদস্যরা তাকে সহায়তা করেননি। যার ফলে পাঠাগারটি তিনি রক্ষা করতে পারেননি। তিনি অনেকবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ মিয়া ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এটি সংস্কার করার কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল-আমিন জানান, পাঠাগারটি চালু এবং সংস্কার করার জন্য খুব তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।