জাতিগত সশস্ত্র এ গোষ্ঠীটি ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীদের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করে আসছে। হামলার পালটা জবাবে সেনাবাহিনীও বিমান হামলা চালাচ্ছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে
মিয়ানমারের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় একটি শহরে সেনাবাহিনীর ওপর জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মির (কেআইএ) সদস্যরা হামলা চালিয়েছে। জেড খনির কামটি নামক এ শহরটিতে এমন এক সময় এ হামলার ঘটনাটি ঘটল, যখন দেশটিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক টালমাটাল অবস্থা চলছে। এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি গত ফেব্রুয়ারিতে গণতান্ত্রিক সরকারকে উত্খাত করে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলেরও বিরোধিতা করে আসছে।
শনিবার সশস্ত্র গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা সাগাইং অঞ্চলের কামটি শহরের একটি সেনাচৌকিতে হামলা চালায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইরাবতী ও মিজিমার বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে হামলাস্থল থেকে ব্যাপক ধোঁয়া উড়তেও দেখা যায়। কেআইএ-র মুখপাত্র ন বু হামলার বিষয়ে অবগত থাকার কথা জানালেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি। হামলার খবর প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমটি সামরিক জান্তার মুখপাত্রের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। শহরটির এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ‘যুদ্ধ এখনো চলছে। আমি গুলির আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি’। সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মিয়ানমা ইকোনমিক হোল্ডিংস লিমিটেড সংশ্লিষ্ট একটি খনি প্রকল্পের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাত্ক্ষণিকভাবে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাচিন জনগণের জন্য বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন চেয়ে ছয় দশক ধরে লড়াই চালিয়ে আসা কেআইয়ের মুখোমুখি যুদ্ধের মাত্রা তীব্রতর হয়েছে। জাতিগত সশস্ত্র এ গোষ্ঠীটি ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীদের প্রতি তাদের সমর্থনও ব্যক্ত করেছে। কেআইএ-র হামলার পালটায় সেনাবাহিনী সশস্ত্র গোষ্ঠীটির ওপর বিমান হামলা চালাচ্ছে। কামটি থেকে ভারত সীমান্তের দূরত্ব মাত্র ৫০ কিলোমিটার।
গত কিছুদিন ধরে সেনাবাহিনী কেআইয়ের অবস্থানে লাগাতার বোমা হামলা করেছে; সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের পূর্ব ও পশ্চিমে অন্যান্য জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গেও সেনাবাহিনীর সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটিতে ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অন্তত ৮১২ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিকাল প্রিজনার্স। নিহতের এ তথ্য সঠিক নয় দাবি করে বিক্ষোভকারীদের হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর দুই ডজন সদস্য নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
