চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হতে হবে

আপডেট : ২২ মে ২০২১, ২২:১৬

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যুবসমাজকে চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, চাকরির পেছনে না ছুটে মত্স্য উদ্যোক্তা হোন। সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই এবং জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছে।

গতকাল শনিবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন মত্স্যজীবী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। যুব সমাজকে মত্স্য উত্পাদনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে                আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, এখানে ব্যাপক একটা কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়ে গেছে। কাজেই এই সুযোগটাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই। বাংলাদেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে আদর্শ নিয়ে এবং নীতি নিয়ে এই দেশ স্বাধীন করেছেন, সেই আদর্শ-নীতি নিয়েই এগিয়ে যাবে। বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মত্স্যজীবী আমাদের এই প্রতিষ্ঠানকে বলব, আপানদের নিজেদেরও সংগঠনকে আরো সুসংগঠিত করা এবং আমাদের যুব সমাজ যাতে আরও এগিয়ে আসে মত্স্য উত্পাদনে মনোযোগী হয় সেদিকে একটু দৃষ্টি দিতে হবে। এখানে ব্যাপক একটা কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়ে গেছে। কাজেই সেই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে হবে।’ এই জন্য বিশেষ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থাসহ সব ধরনের সুযোগ সরকারের পক্ষ থেকে করে দিয়েছি বলেও অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমি স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই। বাংলাদেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এইটুকু বলব যে আদর্শ নিয়ে এবং নীতি নিয়ে তিনি এই দেশ স্বাধীন করেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সেই আদর্শ এবং নীতি নিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। ’

মত্স্যজীবী লীগের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখন সরকারে এসেছে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে গেছে। আাামদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্জন করবে। আমরা ১৯৯৬ সালে যখন সরকারে আসি, ১৯৯৮ সালেই দেশকে খাদ্যে স্ব্যয়ংসম্পূর্ণ করে তুলি। দ্বিতীয়বার যখন আমরা সরকারে আসি তখনও আমাদের লক্ষ্য পূরণ করি এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করি। খাদ্যের সঙ্গে পুষ্টিটা যাতে যোগ হয় তার ব্যবস্থা নেই। সেদিকে খেয়াল রেখে আমরা ১৯৯৬ সাল থেকেই সচেষ্ট হই।’

যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে বিনা জামানতে ঋণ নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ সৃষ্টির কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের মাছের উত্পাদন যেখানে ২৭ লাখ মেট্রিক টন ছিল এখন আমরা ৫০ লাখ মেট্রিক টনের কাছাকাছি উত্পাদন করা শুরু করেছি। আর ইলিশ উত্পাদনে পৃথিবীতে আমরা কিন্তু এখন এক নম্বর দেশ। আমরা ইলিশ উত্পাদনের জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ নেই।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ প্রান্তে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি তার সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। এছড়া বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য শাহাবুদ্দীন ফরাজী, এ বি এম রিয়াজুল কবির কাওছার। সভায় সভাপতিত্ব করেন মত্স্যজীবী লীগের সভাপতি সায়ীদুর রহমান এবং সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শেখ আজগর নস্কর।