নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে পারবেন আসামিরা

আপডেট : ২২ মে ২০২১, ২২:৩১

নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে পারবেন ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্তরা। শারীরিক উপস্থিতিতে অভিযুক্তদের জামিন আবেদনের শুনানি ও নিষ্পত্তি করতে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল/ মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল/ সাইবার ট্রাইব্যুনালসমূহের বিচারকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। গতকাল শনিবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী আদালত প্রাঙ্গণ ও এজলাস কক্ষে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য বিচারকদেরকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রধান বিচারপতির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন থানায় প্রতিদিন বহু ফৌজদারি মামলা হয়। এসব মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। এখন সশরীরে আত্মসমর্পণ করে আসামিরা নিম্ন আদালতে জামিন চাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় হয়রানি ও দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা পাবেন। এতে বিচারপ্রার্থী জনগণের সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বাতেন ইত্তেফাককে বলেন, আত্মসমর্পণ করে জামিন চাওয়ার সুযোগ বন্ধ থাকায় ফৌজদারি মামলার আসামিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন পুলিশের হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পেতে। এখন অভিযুক্তদের সারেন্ডারের সুযোগ দেওয়ায় তারা আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইতে পারবেন। এমনকি জামিন পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সরকার সারা দেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে। একই সঙ্গে করোনা সংক্রমণ থেকে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণকে রক্ষায় সীমিত পরিসরে ভার্চুয়াল বিচার কাজ                 পরিচালনার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। ফলে অধস্তন আদালতে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্তরা আত্মসমর্পণ করে জামিন চাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে অনেক বিচারপ্রার্থী জনগণ হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে আইনজীবীরা অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির দৃষ্টিগোচরে আনেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, ঢাকা আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ। এমতাবস্থায় প্রধান বিচারপতি নিম্ন আদালতে আসামিদের আত্মসমর্পণ করে জামিন চাওয়ার সুযোগ দেন।

প্রধান বিচারপতির নির্দেশনাসমূহ

শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব অনুসরণ করে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত বা ব্যক্তিগণ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল/মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল/সাইবার ট্রাইব্যুনালসমূহে আত্মসমর্পণ করতে পারবেন। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল/মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল/সাইবার ট্রাইব্যুনাল বিচারক এজলাস কক্ষে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনসহ শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ। এসব আদালতসমূহে আত্মসমর্পণ আবেদন দাখিল এবং শুনানি কার্যক্রমের পদ্ধতি ও সময়সূচি এমনভাবে সমন্বয় করতে হবে যাতে আদালত প্রাঙ্গণে এবং আদালত ভবনে কোনোরূপ জনসমাগম না ঘটে। এছাড়া আত্মসমর্পণ দরখাস্ত শারীরিক উপস্থিতিতে শুনানির সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং তার পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী ব্যতীত অন্য আইনজীবী এজলাস কক্ষে অবস্থান করবেন না। একটি আত্মসমর্পণ দরখাস্ত শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এজলাস কক্ষ ত্যাগের পর ম্যাজিস্ট্রেট/বিচারক পরবর্তী আত্মসমর্পণের দরখাস্ত শুনানির জন্য গ্রহণ করবেন।