বছরের পর বছর পড়ে থাকা পণ্যভর্তি কনটেইনার সরাতে কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ আবারও সক্রিয় চিন্তা-ভাবনা করছে। এসব কনটেইনারের মধ্যে পচনশীল পণ্যভর্তি বিপুলসংখ্যক কনটেইনার রয়েছে। নানা কারণে আমদানিকারকরা আমদানি পণ্য ডেলিভারি না নেওয়ায় হাজার হাজার পণ্যভর্তি কনটেইনার ইয়ার্ড দখল করে থাকায় চট্টগ্রাম বন্দর ইতিপূর্বে বহুবার কনজেশন পরিস্থিতিরও শিকার হয়। করোনাকালীন এবং লকডাউন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দর পুরোপুরি সচল থাকায় বন্দর ইয়ার্ডে পড়ে থাকা কনটেইনার সরানো অত্যাবশ্যক বলে বন্দর কর্মকর্তারা মনে করছেন। এই প্রক্রিয়াটি সম্পাদন করছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে ডেলিভারি না নেওয়া পণ্যভর্তি কনটেইনারের সংখ্যা বন্দর ইয়ার্ডে এখন প্রায় ৬ হাজার টিইইউস। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, সংখ্যাটি হবে আরো কম। কারণ পণ্য বিনষ্ট করার প্রক্রিয়া ও প্যানালরেন্ট আরোপের কারণে ইতিমধ্যে বহু আমদানিকারক তাদের পণ্য বোঝাই কনটেইনার ডেলিভারি নিয়ে গেছেন।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের নিলাম শাখার ইয়ার্ডে পড়ে থাকে বিনষ্ট আমদানি পণ্য ধ্বংস করে খালি কনটেইনার বন্দর থেকে সংশ্লিষ্ট শিপিং লাইন্সসমূহকে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল গত মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল বাছাই করা ২৯৮টি কনটেইনারের বিনষ্ট পণ্য নির্দিষ্ট স্থানে ধ্বংস করে বন্দরে পড়ে থাকা কনটেইনারমুক্ত করা। এই লক্ষ্যে গত ২৯ ও ৩১ মার্চ ১ ও ৪ এপ্রিল চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ১২৬টি কনটেইনারের পচা বিনষ্ট পণ্য ধ্বংস করে বন্দরকে কনটেইনার মুক্ত করার কাজে অগ্রসরও হয়েছিল। কিন্তু লকডাউন ঘোষিত হওয়ার বাকি ১৭০টি কনটেইনারের পণ্য ধ্বংসের প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা অনুসারে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ কর্তৃপক্ষ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বন্দরে পড়ে থাকা কনটেইনারের বিনষ্ট পণ্য ধ্বংসে একটি কমিটিও গঠন করেছিল। কমিটিতে চট্টগ্রাম বন্দর, মহানগর পুলিশ, জেলা প্রশাসন, বিজিবি, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ ছয়টি সংস্থার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু মার্চ শেষ প্রান্তিকে করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় সারা দেশে লকডাউন জারি হলে কমিটির কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায়।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের কমিশনার মো. ফখরুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা এটি। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরকে কনজেশনের বা কনটেইনার জটের ঝুঁকিমুক্ত রাখতে ডেলিভারি না নেওয়া বিনষ্ট ও নানা ধরনের পণ্যভর্তি বিপুলসংখ্যক কনটেইনার বন্দর ইয়ার্ড থেকে অপসারণ করা ছাড়া উপায় নেই।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন ইত্তেফাককে বলেন, নানা কারণে আমদানিকারকরা বন্দর থেকে আমদানি পণ্যভর্তি কনটেইনার ডেলিভারি না নেওয়ায় জমে গেছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কনটেইনারের পণ্য নিলাম করলেও এসব কনটেইনার যে বন্দরে এতদিন পড়েছিল তার জন্য কোনো ক্ষতিপূরণের টাকাও পায় না শিপিং এজেন্টরা।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ৬ হাজার পণ্যভর্তি পড়ে থাকা কনটেইনার অপসারণের অপেক্ষায় আছে।
এদিকে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের নিলাম শাখার কনটেইনারের নষ্ট পণ্য ধ্বংসে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান কেএম করপোরেশনের ব্যবস্থাপক মো. মোরশেদ ইত্তেফাককে বলেন, বিনষ্ট পণ্যের মধ্যে পেঁয়াজ, আপেল ও মাছ-মাংস জাতীয় পণ্য বেশি। তবে এখানে ধ্বংস করতে গিয়ে দেখা গেছে ২০০৯ সালেরও বিনষ্ট পণ্যভর্তি কনটেইনার রয়েছে।
