সাংবাদিক রোজিনার মুক্তির অপেক্ষায় কারাফটকে ভিড়

আপডেট : ২৩ মে ২০২১, ১৫:৪৮

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মুক্তির অপেক্ষায় কারাফটকে অবস্থান করছেন বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী ও উৎসুক জনতা। রবিবার সকাল থেকে বিভিন্ন পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা কারাফটকে ভিড় করে আছেন। 

সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রোজিনা ইসলামের জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর থেকে কারাফটকে ভিড় বাড়তে থাকে। তবে বেলা পৌনে দুইটা পর্যন্ত কারাগারে রোজিনা ইসলামের জামিন আদেশের কাগজপত্র এসে পৌঁছায়নি বলে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের জেলার হোসনে আরা বিথী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

কারা সূত্র জানায়, রোজিনা ইসলামের জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র কারাগারে আসার পর তা যাচাই-বাচাই করে দ্রুতই তাকে মুক্তি দেওয়া হবে। সরকারি ‘গোপন নথি’ সরানোর মামলায় প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে রবিবার সকালে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকা এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে তিনি জামিন পান।

সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। ছবি: আব্দুল গনি

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়। জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণ করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বাকী বিল্লাহ। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী শুনানিতে দুই পক্ষের আইনজীবীরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন। তবে আদালত সেদিন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য উপস্থাপন ও জামিন বিষয়ে রবিবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।


 
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে ১৭ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্তা ও নির্যাতন করা হয়। রাত সাড়ে আটটার দিকে তাকে শাহবাগ থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত পৌনে ১২টার দিকে তার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়।

শাহবাগ থানার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ১৮ মে রোজিনা ইসলামকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ তাকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। শুনানি নিয়ে আদালত রিমান্ডের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আর জামিন আবেদনের ওপর অধিকতর শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন রাখেন। এই আদেশের পর রোজিনা ইসলামকে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে পাঠানো হয়।

ইত্তেফাক/এএএম